প্রথম ম্যাচে যে স্কোর গড়ে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিলো বাংলাদেশ, এবার ঠিক একই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো টাইগাররা। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মাজ সাদাকাতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে বড়ো জয় উপহার দিয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা আনলো পাকিস্তান। আগামী ১৫ মার্চ সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের শুরুটা ছিলো স্বপ্নের মতো। ওপেনার ফারহান ও মাজ এগিয়ে যাচ্ছিলেন দারুণভাবে। মাঝখানে রিজওয়ান, সালমানের ব্যাটে ২৭৪ রানের পুঁজি পায় সফরকারীরা।
অপরদিকে চেক করতেনামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিলো দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় টপ অর্ডারে ধস নামান পাকিস্তানি অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে দ্রুত ফিরিয়ে সুর বেঁধে দেন তিনি। সাইফ হাসানকে আউট করে চাপে আরও ঘি ঢালেন ওয়াসিম জুনিয়র।
ম্যাচের মাঝপথে যখন বাংলাদেশ ধুঁকছিল, তখন বজ্রসহ বৃষ্টি হানা দেয়। প্রায় ১৩৩ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর যখন সংশোধিত কন্ডিশনে খেলা শুরু হয়, তখন মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে অলরাউন্ডার মাজ সাদাকাতের। নিজের বাঁহাতি স্পিনে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। আবরার আহমেদের পরিবর্তে খেলতে নামা হারিস রউফও নিয়েছেন তিনটি উইকেট। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছু দারুণ শট খেললেও লিটন আউট হওয়ার পর বাকিরা আর উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি। বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ১১৪ রানে।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ি করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাটিং ইউনিটকে আরও উন্নতি করতে হবে। প্রথম ১০ ওভারে আমরা যেমন অনেক রান দিয়ে ফেলেছি, তেমনি আমাদের টপ অর্ডারও রান পায়নি। ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে।
আগা সালমানের রান আউট নিয়ে মিরাজ জানান, সেটি কেবল উইকেট রক্ষার তাগিদেই করা।
অন্যদিকে সিরিজ সমতায় ফেরাতে পেরে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি বলেন, আগের ম্যাচে আমরা দ্রুত উইকেট হারিয়েছিলাম। এবার পরিকল্পনা ছিলো নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার। পেসারদের জন্য উইকেটে সহায়তা ছিলো বলেই আমরা চারজন ফাস্ট বোলার নিয়ে নেমেছিলাম এবং তারা দারুণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠন করা।
ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই দ্যুতি ছড়িয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন মাজ সাদাকাত। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, আগের ম্যাচে কিছুটা চাপে থাকলেও আজ নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। আমি মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার, তবে আমাদের কোচ অ্যাশলে নফকির অধীনে বোলিং নিয়েও অনেক কাজ করছি, যা আজ কাজে লেগেছে।