রোববার সকালে শুরু হওয়া প্রথম সেশনটি দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের বোলারদের। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত এবং আক্রমণাত্মক বোলিং করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তুলে নিয়েছেন টাইগাররা। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম সেশনেই চার উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে গেছে পাকিস্তান।
দিনের শুরুতেই পাকিস্তানি ওপেনারদের ওপর চেপে বসেন তাসকিন আহমেদ। তার নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। সকালের শুরুতে উইকেট থেকে সুবিধা নিয়ে এই দুই ওপেনারকে দ্রুততম সময়ের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। তার এই দুর্দান্ত স্পেলটিই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু এনে দেয়।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। উইকেটে থিতু হয়ে দুজনেই বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রান তুলতে থাকেন। বোলারদের আলগা বলগুলোকে সীমানাছাড়া করে রানের গতি সচল রাখেন তারা। তবে ভালো শুরু করলেও নিজের ইনিংসটিকে বড়ো করতে পারেননি শান মাসুদ। বোলিংয়ে নিজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারেই শান মাসুদকে পরাস্ত করেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
শান মাসুদের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে বাবর আজমকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন সৌদ শাকিল। বেশ রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে উইকেট আগলে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকা টেস্টের মতোই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে বসেন শাকিল। মিরাজের বলে বড়ো সুইপ শট খেলতে গিয়ে আবারও নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন তিনি।
অন্যপ্রান্তে বাবর আজম একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বেশ সাবলীল দেখাচ্ছে তাকে। তবে বড়ো সংগ্রহের জন্য এখন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে শক্ত সমর্থন প্রয়োজন তার। প্রথম সেশনের এই ধাক্কার পর পাকিস্তান যদি আবারও কোনো বড়ো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে, তবে তা ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে তাদের—যা এই মুহূর্তে কোনোভাবেই কাম্য নয় দলটির জন্য।
লাঞ্চের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ চার উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান। ৩৭ রানে বাবর আজম ও ছয় রানে সালমান আগা ব্যাট করছেন। তারা এখনও পিছিয়ে ১৮২ রান। তাসকিন ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।