অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ার-সেরা বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া অর্ধশতকে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড়িয়ে করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান তুলেছে স্বাগতিকেরা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি স্বাগতিকদের চতুর্থ সর্বোচ্চ ওডিআই স্কোর।
মঙ্গলবার (৯ জুন) টস জিতে অজি অধিনায়ক জস ইংলিশ প্রথমে শান্তদের ব্যাট করতে পাঠান। একপর্যায়ে রান পাহাড়ের আভাস দিয়েও মাঝে কিছুটা খেই হারায় বাংলাদেশ। তবে শেষদিকের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিল লাল-সবুজরা।
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া ফিফটিতে বড়ো স্কোরের শক্ত ভিত্তি পায় বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের মাঝপথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একসময় ৩০০ রান পার করার সম্ভাবনা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে দল।
ঠিক তখন দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৭০ বলে ৮৬ রানের একটি নান্দনিক ও কার্যকারী ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। মোসাদ্দেকের এই অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে ২৭৫ রানের গণ্ডি পার করে ২৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি নিশ্চিত করে।
এদিন টস হেরে বল করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং ছিলো চরম গড়পড়তা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিস ও সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিতে হয়েছে সফরকারীদের। বিশেষ করে অর্ধশতক হাঁকানো শান্ত এবং মোসাদ্দেক একাধিকবার জীবনদান পান। ইনিংসের শেষভাগে মোসাদ্দেককে চার-চারবার জীবনদান করেন অজি ফিল্ডাররা, যার মধ্যে দুবার রান আউটের সুনির্দিষ্ট সুযোগও ছিলো।
বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়াই করেছেন পেসার নাথান এলিস। তিনি দুর্দান্ত বোলিং করলেও দলের বাকি বোলারদের কাছ থেকে কোনো সমর্থন পাননি। অন্যদিকে ম্যাট রেনশ দুটি উইকেট শিকার করলেও তাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বল করানো হয়েছে।
এই পিচে পেস বোলিং বেশ কার্যকর এবং বাউন্স রয়েছে, যা প্রথম ইনিংসের শেষভাগে বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের ভালোভাবেই টের পেতে হয়েছে। ফলে এই উইকেটে ২৮৫ রান তাড়া করা অস্ট্রেলিয়ার জন্য মোটেও সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আর নিজেদের কন্ডিশন এবং চেনা উইকেটে এই স্কোর ডিফেন্ড করে ম্যাচ জিতে নেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।