স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের সামলে শক্ত ভিত্তি, প্রথম দিন বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর নিজেদের প্রথম ইনিংসেও শক্ত জবাব দিচ্ছে সফরকারীরা। দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ১০২ রানে পিছিয়ে রয়েছে। 

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে তার সেই সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি। ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড ভালো সূচনা পেলেও বড়ো ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। নতুন বলে বাংলাদেশের পেসাররা মারাত্মক সুইং ও নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করে প্রথম সেশনেই চার উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেন।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকেরা। তবে ব্যক্তিগত দুই রানে ক্যাচ বেঁচে যাওয়া স্মিথ এক প্রান্ত ধরে রেখে ৭১ রানের ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন সমর্থন পাননি। ড্রিঙ্কস বিরতির পর আবারও ধস নামে অস্ট্রেলীয় ব্যাটিং লাইনে।

বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের গতি ও সুইংয়ের সামনে একে একে সাজঘরে ফেরেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। ৫৫ রানে ছয় উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং স্পেল উপহার দেন এই তরুণ পেসার। অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটের সব কটিই নেন বাংলাদেশের পেসাররা।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ টেনে ধরে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দুই অস্ত্র মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড নতুন বলে নিজেদের সেরা ফর্মে ছিলেন না। সেই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগান বাংলাদেশের ওপেনাররা। ওপেনার সাদমান ইসলাম স্টার্কের বলে আউট হওয়ার আগে দলকে একটি শক্ত ভিত্তি এনে দেন।

পরবর্তীতে উইকেটে এসে মোমিনুল হক পাথরের মতো দৃঢ় অবস্থান নেন। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসানও অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। এই দুজনের অবিচল ব্যাটিংয়ে গড়ে ওঠে অপরাজিত ৬০ রানের একটি কার্যকরী জুটি।

প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় এক উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান। ৩৫ রানে মুমিনুল হক ও ৩২ রানে তানজিদ তামিম ব্যাট করছেন।

চট্টগ্রাম বা ঢাকার মতো চেনা উইকেটের মতোই ধীরগতির এই পিচটি বাংলাদেশের ব্যাটিং কৌশলের জন্য বেশ উপযুক্ত বলেই মনে হচ্ছে। তবে সঠিক জায়গায় বল ফেললে এখনো সুইং মিলছে। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দিনে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণ সম্ভাবনা তাদের রয়েছে।