অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের শক্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো বজায় রয়েছে। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে পুরো ম্যাচজুড়েই প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে সফরকারীরা। ফলে একটি ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন এখন আর অধরা মনে হচ্ছে না, তবে টেস্ট ম্যাচের এখনো বেশ কিছু লড়াই বাকি রয়ে গেছে।
শনিবার সকালে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়ে শেষ সারির ব্যাটারদের সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন। তিনি ৬৫ রানের একটি সংযত ইনিংস উপহার দেন। শেষ দিকে টেল-এন্ডারদের কার্যকর ব্যাটে ভর করে শক্ত ভিত গড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে একাই লড়াই চালান জশ হ্যাজেলউড; ছয় উইকেট শিকার করার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে ৩০০তম টেস্ট উইকেট নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। অবশ্য অন্য অজি বোলাররা ছিলেন কিছুটা অসংলগ্ন। অন্যদিকে ধৈর্য ও আক্রমণের সঠিক মিশ্রণে ব্যাটিংয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা।
জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় শুরুতেই তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়েন দুই অজি ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্র্যাভিস হেড। দুজনেই হাসানের বলে নিজেদের স্টাম্পে ইনসাইড এজ করে বোল্ড হন। শট খেলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে ব্যাকফুটে গিয়ে আউট হন ওয়েদারাল্ড, আর বলের লেংথ বুঝতে ভুল করে উইকেট হারান হেড।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ প্রাথমিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিজে থিতু হন লাবুশেন। অন্যদিকে স্মিথ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করতে থাকেন। তবে এই প্রতিরোধ বেশি দূর এগোতে দেননি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাইজুলের একটি দ্রুতগতির ইন-ড্রিফটার বলের লাইন মিস করে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লাবুশেন।
এরপর ক্রিজে আসেন ক্যামেরন গ্রিন। তিনি স্মিথের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। স্মিথ যখন বড় শট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অফ-স্পিনার মেহেদীর ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন। বলটি মেহেদীর দিকে ঠেলে দিলে তিনি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক অসাধারণ ফিরতি ক্যাচ নেন।
বর্তমানে ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটে লড়াই চালাচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে থাকা ক্যামেরন গ্রিন ভালো ব্যাটিং করছেন এবং অ্যালেক্স ক্যারি কিছু স্নায়ুচাপের মুহূর্ত সামলে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। কন্ডিশন ও পিচ বোলিং সহায়ক হলেও ম্যাচ বাঁচানোর বিশাল চাপই অজিদের আরও বড় বিপদে ফেলতে পারে। ঐতিহাসিক জয় থেকে আর অল্প দূরে থাকলেও ম্যাচ নিজেদের পক্ষে আনতে সফরকারীদের এখনো কঠিন কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তৃতীয় দিন শেষে অস্টেলিয়ার সংগ্রহ চার উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান। ৪৩ রানে ক্যামেরুন গ্রিন ও ১৯ রানে অ্যালেক্স ক্যারি ব্যাট করছেন।এখনও তারা পিছিয়ে ৬৭ রানে। এদিন হাসান মাহমুদ দুটি এবং মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল নিয়েছেন একটি করে উইকেট।