অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ: কামিন্স

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের লজ্জাজনক হারের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চান না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ সব দিক থেকে তাদের ছাড়িয়ে গেছে বলে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে রদবদল বা পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন এই অজি দলপতি।

ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কামিন্স বলেন, আমাদের প্রস্তুতি বেশ নিখুঁত ছিল। তাই হারের কোনো অজুহাত আমরা দেব না। বাংলাদেশ সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে। ম্যাচের প্রথম দিনে উইকেটে কিছুটা সাহায্য থাকলেও আমাদের আরও বেশি সময় ব্যাট করা উচিত ছিল। পরবর্তীতে বোলিংয়েও আমরা তাদের কোনো প্রভাব ফেলতে পারিনি। ম্যাচের সব বিভাগেই তারা আমাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।

Darwin Test 07
প্রথম ইনিংসে টস জিতে ব্যাট করার কামিন্সের সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে প্রশ্নের মুখে পড়ে, কারণ অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। বিপরীতে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেয়। ওপেনার জেক ওয়েদারল্ড (২৩ ও ০) এবং তিন নম্বরে থাকা মার্নাস লাবুশেন দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কড়া পর্যালোচনার মুখে।

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না- এমন প্রশ্নে কামিন্স জানান, মাঠ থেকে সবেমাত্র বের হওয়ায় তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করা যাবে না। তবে দল বিপর্যয়ে পড়লে নিশ্চিতভাবেই রণকৌশল ও কম্বিনেশন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সাথে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে অজি ব্যাটাররা একসঙ্গে বসে নিজেদের ঘাটতিগুলো শুধরে নেবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিং চ্যানেল সেভেনে ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগেই একাদশে পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার হন। পন্টিংয়ের মতে, অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য এখন নতুন রক্ত সঞ্চালন বা পুনর্গঠন শুরু করার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি সোজা জানান, ব্যাটারদের টানা ব্যর্থতার পর এখন ওপেনিং বা তিন নম্বর পজিশনে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার সঠিক মুহূর্ত এটি।

Darwin Test 06
ব্যাটিং ও বোলিংয়ের চরম ব্যর্থতার মাঝেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য দুটি বড় ইতিবাচক দিক ছিল জোশ হ্যাজলউড ও ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ পেসার হ্যাজলউড প্রথম ইনিংসে ৮৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

অন্যদিকে, চাপের মুখে থাকা অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ঘরের মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেন। হ্যাজলউডের ফিটনেস ও বিশ্বমানের বোলিং এবং ক্যামেরন গ্রিনের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন অধিনায়ক কামিন্স। তবে, ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলের সামাল দিতে বাকিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো