বোলিং ও ব্যাটিংয়ের শ্রেষ্ঠত্বে আবুধাবি শাসনে টাইগাররা

তৃতীয় দিন শেষ বাংলাদেশ ৩৪৬ ও ২২৩/৬ (শান্ত ৮২, মুশফিকুর ৮১, আহমদজাই ২-৪২, জিয়া ২-৫৫) আফগানিস্তান ২৪০ (রহমত ১০৫*, মাহমুদ ৫-৫১, এবাদত ৪-৫৬) থেকে ৩২৯ রানে এগিয়ে।

আবুধাবির তপ্ত উইকেটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একপেশে আধিপত্য বজায় রেখে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারের প্রথম ঐতিহাসিক হ্যাট্রিক ও ইবাদত হোসেনের আগুনে বোলিংয়ের পর মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া ফিফটি ও ১৫৯ রানের অনবদ্য জুটিতে আফগানদের নাগালের বাইরে ম্যাচ নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। দিনশেষে আফগানিস্তানের চেয়ে ইতিমধ্যেই ৩২৯ রানে এগিয়ে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

Abudhabi Test 03
দিনের শুরুটা ছিল এককথায় পেসার হাসান মাহমুদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও রেকর্ডের মহোৎসব। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাট্রিকের বিরল কীর্তি গড়েছেন হাসান। ৮২তম ওভারে ইবাদত হোসেন বিপজ্জনক রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের ৮০ রানের জুটি ভাঙার পরই শুরু হয় হাসানের রুদ্ররূপ। প্রথমে নিচু হওয়া বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করেন হাসান, ঠিক তার পরের বলেই কায়েস আহমেদের ব্যাটের প্রান্ত স্পর্শ করা বলে ডানে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন দাস।

হ্যাট্রিক বলে একদম পারফেক্ট লেন্থে ইনসুইঙ্গার বানিয়ে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই ডানহাতি পেসার। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি আফগানদের। আলোক কাপালি (২০০৩) ও সোহাগ গাজীর (২০১৩) পর বাংলাদেশের তৃতীয় এবং প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাট্রিকের ইতিহাসে নাম লেখান হাসান।

পরে ইয়ামিন আহমাদজাইকে সাজঘরে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের ১৭তম টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি নিজের ফাইফার (৫ উইকেট) পূর্ণ করেন হাসান। অন্যদিকে অন্যপ্রান্তে ইবাদত ৪ উইকেট শিকার করায় টেস্টের এক ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম পেস জুটি হিসেবে দুজনই অন্তত ৪টি করে উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। আফগান অধিনায়ক হিসেবে রহমত শাহ একা লড়াই চালিয়ে অপরাজিত ১০৫ রানের সেঞ্চুরি করলেও অন্য ব্যাটাররা হাসানের তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েন। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে পিছিয়ে থেকেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।

Abudhabi Test 01
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান দ্রুত ফিরে গেলে জমে ওঠে ম্যাচের রোমাঞ্চ। তবে আফগানদের সেই আশার গুড়ে বালি ঢেলে দেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজনে মিলে গোরস্তানে পরিণত করেন আফগান স্পিন আক্রমণকে, গড়ে তোলেন ১৫৯ রানের বিশাল ও ধীরস্থির এক জুটি। মুশফিক নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে খানিকটা দেখে-শুনে ধীরগতিতে শুরু করলেও পরে ব্যাট চালান শান্ত, ১৯১ বলে ৮২ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

দিনের শেষ সাত ওভারে অবশ্য সামান্য স্বস্তি পেয়েছে আফগানিস্তান। স্পিনের ভেল্কিতে পরপর তুলে নেয় মুশফিক, শান্ত ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদের উইকেট। তা সত্ত্বেও তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে যে রানের পাহাড় দাঁড় করিয়েছে, তাতে আবু ধাবি টেস্টে আফগানদের ঘুরে দাঁড়ানো এখন কেবলই অলৌকিক কোনো ঘটনার ওপর নির্ভরশীল!