লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যেন বাইশ গজে রোমাঞ্চের এক তুফান বয়ে গেল! ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া পাহাড়সম ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফখর জামানের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে আরাফাত মিনহাজের চোখ জুড়ানো ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে মাত্র ৩ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ৯ বল বাকি থাকতেই দুর্দান্ত এই জয় তুলে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি নিজেদের শোকেসে তোলে স্বাগতিকরা। আর জয়ের প্রতীকী রূপ হিসেবে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির ব্যাট থেকেই আসে সেই ঐতিহাসিক জয়সূচক ছক্কাটি।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে বোলিং নেওয়া পাকিস্তান শুরুতেই লঙ্কানদের ব্যাটারদের দাপটে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত ব্যাট করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দুর মেন্ডিস, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে পবন রত্নায়েকে বানান চোখ ধাঁধানো ৭৭ রানের ইনিংস। ৪১ ওভার শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২৫৫ রান।
মনে হচ্ছিল, স্কোর বুঝি অনায়াসে সাড়ে তিন শ ছাড়িয়ে যাবে। ঠিক তখনই বল হাতে জাদুকরী কামব্যাক করেন পাকিস্তানের পেসাররা। শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহের বোলিং তোপে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ২৮ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তাদের ইনিংস থামي ৩২৫ রানে ৮ উইকেটে। আফ্রিদি শিকার করেন ২ উইকেট।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ১৪ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে লঙ্কানদের উল্লাসে মাতিয়েছিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা। তবে এরপরই শুরু হয় আসল লড়াই। উইকেটে এসে দলের হাল ধরেন তরুণ সাদ বেগ (৭৪) ও অভিজ্ঞ ফখর জামান। দুজনের ১৪৯ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি পাকিস্তানকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলে। অবশ্য মাঠে নামা শিশির ভেজা আউটফিল্ড এবং লঙ্কান ফিল্ডারদের মিস ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের পূর্ণ ফায়দা নেন ফখর। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নিজের মতো করে মাঠের চার কোণায় শটের ফুলঝুরি ছোটান এই বাঁহাতি ওপেনার।
মাত্র ৫২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন ফখর। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৯৯ বলে ১২৭ রানের এক মাস্টারক্লাস ইনিংস উপহার দেন তিনি। যার মধ্যে ৭২ রানই এসেছে লেগ সাইডের চোখধাঁধানো সব শটে। ৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে ফখর আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১০৬ রান।
ফখরের বিদায়ের পর দলের দায়িত্ব বুঝে নেন তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজ। ম্যাচের তখন চরম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। উইকেটে এসে একটু সময় নিয়ে থিতু হন মিনহাজ, আর এরপরেই শুরু হয় তার আসল তান্ডব। শেষ ১৭ বলে বিধ্বংসী মেজাজে ৪৬ রান তুলে শ্রীলঙ্কার মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি। আসিতা ফার্নান্দোর বলে ছক্কা-চারের ফুলঝুরি ছুটিয়ে জয়কে একেবারে নাগালে নিয়ে আসেন মিনহাজ। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির ব্যাটে ভর করে দুর্দান্ত এক জয়ের উল্লাসে মত্ত হয় পুরো পাকিস্তান দল।