নতুন বছরের শুরুটা পাওনা টাকা আদায়ে আদালতে দৌড়ঝাঁপ করে কাটবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। সিআর সেভেনের দাবি, তার ২০ মিলিয়ন ইউরো বেতন ফ্রিজ হয়ে আছে জুভেন্টাসের কাছে। সেটা ইতালিয়ান ক্লাবটিকে দিতে হবে। তবে, ক্লাব এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের এপ্রিলে এর সুরাহা হবে।
সৌদির মাটি ফুটবলের ঘাঁটি, মিডিল ইস্টার্ন একটা দেশে ফুটবল নিয়ে এমন ইউরোপিয়ান লেভেলের উদ্মাদনা তৈরি হতে পারে কয়েক বছর আগে সেটা অনেকে ভাবতেও পারেনি। কিন্তু নতুন করে সব হিসেব কষতে হচ্ছে একটা মানুষের কারণে, তিনি আর কেউ নন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুনিয়া জুড়ে তার যে প্রভাব, সেটা কাজে লাগিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সৌদি ফুটবল কর্তারা। বাকিদের দেখিয়েছেন নিউ ওয়ে অব ব্র্যান্ডিং কাকে বলে।
এই প্রভাবের নাম দেয়া হয়েছে রোনালদো ইফেক্ট, যে স্রোতের পালে পরে হাওয়া দিয়েছেন কারিম বেনজেমা, এমগোলো কন্তে, নেইমার জুনিয়রের মতো সুপার স্টাররা। রোনালদোর ক্লাব আল নাসর এখন ছুটছে মোহামেদ সালাহর পেছনে। ওদের দেড়শ মিলিয়ন পাউন্ড প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছে লিভারপুল। টাকা যেনো কোনো ব্যাপারই না!
এমন অঢেল সম্পদে ভেসে যাওয়া রোনালদোকেই কিনা নতুন বছরটা শুরু করতে হচ্ছে নিজের পাওনা টাকা আদায়ে। কোভিডের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা লেগেছিল তার সাবেক ক্লাব জুভেন্টাসেও। প্রায় ছয় মাসের জন্য বেতন হয়ে গিয়েছিল বন্ধ।
পাওনা পরে পরিশোধ করা হবে এমন আশ্বাস দেয়া হলেও ইতালিয়ান দৈনিক লা গাজেত্তা জানাচ্ছে, রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফিরে যাওয়ার পর সেই টাকা নিয়ে গড়িমসি শুরু করে জুভেন্টাস। সিআর সেভেনের দাবি, ওই সময়ের বেতন বাবদ ২০ মিলিয়ন ইউরো পাওনা রয়েছে তার। তাই বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে আদালতে।
বিষয়টির সুরাহা হয়তো হয়েও যাবে শিগগিরি। আগামী মাসেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনে হতে যাচ্ছে শেষ শুনানি। তারপর এপ্রিলে আসবে চূড়ান্ত রায়।
রোনালদো ২০১৮-তে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাসে আসেন। ১৩৪ ম্যাচে করেন ১০১ গোল। দুটো সিরি আ ট্রফির সাথে জিতেছেন একটা করে সুপার কোপা আর কোপা ইতালিয়া।
তবে এসব অর্জন জুভেন্টাসকে রোনালদোর প্রতি সহনশীল করেনি। ইতালিয়ান জায়ান্টরা এসব হরদমই জিততে পারে। তারা চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইটেল, যেটা পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড এনে দিতে পারেননি। সেই ব্যর্থতা নিয়ে সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমান রোনালদো। পাওনা ২০ মিলিয়ন ইউরো বেতন পেছনে ফেলেই সে সময় যেতে হয় তাকে। তবে ছাড় দিলেও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন রোনালদো। এবারে তুরিনের ক্লাবটার সাথে শেষ খেলা হবে আদালতে।