বেনফিকা মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করলেও রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ও ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র কড়া ভাষায় বলেছেন, বর্ণবাদীরা আসলে কাপুরুষ।
গত মঙ্গলবার লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে প্রেস্টিয়ানির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারকে জানান ২৫ বছর বয়সী ভিনিসিয়াস। এর জেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হয় এবং ভিনিসিয়াসের গোলের কিছুক্ষণ পরেই উভয় দলের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যান।
নিজের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার বর্ণবাদের শিকার হওয়া এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, বর্ণবাদীরা সব কিছুর ঊর্ধ্বে কাপুরুষ। তারা কতটা দুর্বল তা ঢাকার জন্য মুখের ভেতর জার্সি গুঁজে কথা বলে। অথচ তাত্ত্বিকভাবে যাদের এদের শাস্তি দেয়ার কথা, তারাই এদের সুরক্ষা দেয়। আজ যা ঘটেছে তা আমার বা আমার দলের জীবনে নতুন কিছু নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, গোল উদযাপনের জন্য আমাকে হলুদ কার্ড দেয়া হয়েছে, যার কারণ আমি আজও বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে, বর্ণবাদ বিরোধী প্রোটোকলগুলো এতই দুর্বলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যে তা কোনো কাজেই আসেনি।
অন্যদিকে, ২০ বছর বয়সী প্রেস্টিয়ানি সামাজিক মাধ্যমে বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি স্পষ্ট করতে চাই যে আমি কখনোই ভিনি জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেইনি। তিনি যা শুনেছেন তা দুর্ভাগ্যবশত ভুল বুঝেছেন। আমি কারোর সাথেই কখনো বর্ণবাদী আচরণ করিনি এবং রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া হুমকির জন্য আমি মর্মাহত।
পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাও তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে প্রেস্টিয়ানিকে সমর্থন জানিয়েছে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিডিওটি দেখলেই বোঝা যায় যে দূরত্বের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়দের পক্ষে প্রেস্টিয়ানির কথা শোনা সম্ভব ছিল না।
মরিনহো কী বলেছেন?
ম্যাচ শেষে বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহোকে ভিনিসিয়াসের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। মরিনহো জানান, তিনি ভিনিসিয়াস ও প্রেস্টিয়ানি উভয়ের কাছ থেকেই আলাদা বয়ান শুনেছেন। ভিনিসিয়াসের গোল উদযাপনকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি ক্লাবের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ইউসেবিওর উদাহরণ টেনে দাবি করেন, বেনফিকা কোনো বর্ণবাদী ক্লাব নয়।
ভিনিসিয়াস দর্শকদের উত্তেজিত করেছেন কি না, জানতে চাইলে মরিনহো বলেন, হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি। গোলটি দুর্দান্ত ছিল, কিন্তু তিনি শুধু গোল করেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। এমন গোলের পর উদযাপনের ধরনটি সম্মানজনক হওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি ভিনিসিয়াসকে বলেছি এই ক্লাবের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটি (ইউসেবিও) ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। সুতরাং এই ক্লাবটি অন্তত বর্ণবাদী হতে পারে না। আমি দুজনের কথাই শুনেছি, তবে আমি কোনো পক্ষ নিতে চাই না; আমি নিরপেক্ষ থাকতে চাই।
প্রতিক্রিয়ায় ‘ফুটবলের কলঙ্ক’
রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড সতীর্থের প্রতি এই আচরণকে ফুটবলের কলঙ্ক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা ফুটবলের জন্য লজ্জাজনক এবং এটি একটি অসাধারণ পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দিয়েছে। ফুটবল বা সমাজে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই।
সাবেক রিয়াল মিডফিল্ডার ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ আমাজন প্রাইমে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, মরিনহো বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দিয়ে বড় ভুল করেছেন। অন্যদিকে সাবেক আর্সেনাল তারকা থিয়েরি অঁরি এবং থিও ওয়ালকটও মরিনহোর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। অঁরি বলেন, আমি বুঝতে পারছি ভিনিসিয়াস কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রেস্টিয়ানি যদি যথেষ্ট সাহসী হন, তবে তিনি নিজেই বলুন তিনি সেদিন কী বলেছিলেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আয়োজক উয়েফা জানিয়েছে তারা গত রাতের ম্যাচের রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করছে। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দাবি তুলেছেন যেন প্রেস্টিয়ানিকে আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে না দেয়া হয়। এমবাপ্পে বলেন, ইউরোপের শীর্ষ আসরে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। উয়েফার উচিত এনিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।
সূত্র: বিবিসি