আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ দিদিয়ের দেশম তার চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের প্রীতি জয় দিয়ে নিজেদের আক্রমণভাগের শক্তি ও গভীরতা প্রদর্শন করল ফ্রান্স।
গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে একঝাঁক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা 'লে ব্লুজ'-রা তাদের দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়। ম্যাচে ডেজিরে দুয়ে জোড়া গোল করেন, অন্যদিকে নিয়মিত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে শুধু ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়।
মেরিল্যান্ডের ল্যান্ডোভারে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের দল 'ওয়াশিংটন কমান্ডার্স'-এর ঘরের মাঠে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। মে মাসে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে এটিই ছিল কোচ দিদিয়ের দেশোঁর শেষ সুযোগ, তাই তিনি শুরুর একাদশে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের ফরোয়ার্ড দুয়ের নিচু শট ক্রিস্টাল প্যালেস ডিফেন্ডার দানিয়েল মুনোজের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে লিড পায় ফ্রান্স। বিরতির ঠিক আগে মোনাকোর মাঘনেস আকলিউশের ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইন্টারের স্ট্রাইকার মার্কাস তুরাম।
৫৬ মিনিটে তুরামের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দুয়ে। এর কিছুক্ষণ পরই হামিন্টন কাম্পাজের জোরালো শট পোস্টে লেগে ভেতরে ঢুকলে এক গোল শোধ করে কলম্বিয়া। ঠিক এই গোলের পরপরই এমবাপ্পেকে মাঠে নামানো হয়।
রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে গত বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ে গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের খুব কাছে চলে এসেছিলেন। তবে হাঁটুর চোট থেকে তিন সপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে ফেরায়, কলম্বিয়ার বিপক্ষে তাকে দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামে রাখা হয়।
দেশের হয়ে ৯৬তম ম্যাচ খেলা এমবাপ্পের গোল সংখ্যা ৫৬-তেই স্থির থাকল। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের ফরাসি রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
কলম্বিয়া শুরুতে বেশ ভালো খেললেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের শক্তির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। হামিন্টন কাম্পাজ একটি গোল করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন মাত্র।
কৌশলগত দিক থেকে দিদিয়ের দেশোঁ প্রায়ই শৈল্পিক ফুটবলের চেয়ে অংক কষে জয় তুলে নেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে সমালোচিত হন। তবে এই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্স শৈল্পিকতা ও কার্যকারিতার দারুণ এক সমন্বয় দেখিয়েছে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে দেশমের অধীনে থাকা ফ্রান্স এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। কোচ হিসেবে এটিই হতে যাচ্ছে দেশোঁর শেষ টুর্নামেন্ট।
সূত্র: আল জাজিরা।