আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে মঙ্গলবার রাতের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়াম যেন হয়ে উঠেছিল এক জাদুকরী মঞ্চ, যেখানে মহানাটকের প্রধান চরিত্রে ছিলেন সেই চিরচেনা জাদুকর- লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের আগে দেশের মাটিতে আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক রাজকীয় বিদায় নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে গত সপ্তাহের সেই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের তিতকুটে স্বাদ এক নিমেষেই মুছে দিলেন মেসি ও তার দল।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪ মিনিটেই লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বাড়ানো লং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে গোল করান মেসি। যদিও গোলটিতে থিয়াগো আলমাদার ছোঁয়া ছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল, তবে শুরুর ধাক্কাতেই জাম্বিয়া কুপোকাত।
বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সাথে দুর্দান্ত এক ওয়ান-টু পাসে বক্সে ঢুকে আলতো ফিনিশে বল জালে জড়ান মেসি। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার ১১৬তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বের ৪০টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গোল করার এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করে আলবিসেলেস্তেরা। ৪৭ মিনিটে থিয়াগো আলমাদা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক মেসি নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির হাতে। দেশের মাটিতে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওতামেন্দি নিখুঁত স্পট কিকে গোল করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডমিনিক চান্দার আত্মঘাতী গোল জাম্বিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। তবে শেষ চমকটি ছিল তরুণ তুর্কি ভ্যালেন্টিন বার্কোর। মেসির ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে নিকোলাস গঞ্জালেসের সহায়তায় জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন বার্কো। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে মেসি প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।
গত ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে দলের এমন ছন্দে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, আগের দিনের পারফরম্যান্স ছিল শুধুই একটি দুর্ঘটনা। আজ ছেলেরা প্রমাণ করেছে তারা এক সাথে কাজ করলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আর এটাই আসল আর্জেন্টিনা।
লা বোম্বোনেরার গ্যালারি যখন মেসির নামে প্রকম্পিত হচ্ছিল, তখন ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন- এটাই কি দেশের মাটিতে প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচ? মেসি নিজে বিশ্বকাপ নিয়ে মুখ না খুললেও তার প্রতিটি স্পর্শেই ছিল বিদায়ের করুণ সুর আর বীরের দাপট।
আর্জেন্টিনার পরবর্তী মিশন এখন যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে জুন মাসে সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের শিরোপা রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই। আপাতত মেসি ফিরছেন দক্ষিণ ফ্লোরিডায়, যেখানে ৪ এপ্রিল ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামে অস্টিন এফসির মুখোমুখি হবেন তিনি। মেসিময় এক রাতের আবেশ নিয়ে এখন বিশ্বজয়ের নতুন স্বপ্নে বিভোর পুরো আর্জেন্টিনা এবং তাদের দুনিয়াজুড়ে থাকা লাখো কোটি সমর্থকরা।