বিশ্বকাপে ড্রোন সন্ত্রাস নিয়ে চিন্তায় মার্কিন আইনপ্রণেতারা

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে ড্রোনের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আকাশপথ সুরক্ষিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান সদস্য। প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককল এবং এলিজা ক্রেন গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে লেখা এই চিঠিতে বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি মার্কিন শহরের আকাশপথ সুরক্ষিত করতে অবিলম্বে আন্তঃসংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


কংগ্রেস সদস্যদের মতে, ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল গার্ড’-কে ক্ষমতায়ন করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল গার্ডের দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা এবং ঘরোয়া জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ব্যাপক অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপকে একটি ‘একীভূত ফেডারেল নিরাপত্তা’ বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো আসরে কর্মী সংকট এবং আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিরাপত্তায় ফাঁক তৈরি হতে পারে। এই বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি দূর করতে একটি কেন্দ্রীয় ফেডারেল নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। মূলত ড্রোন বা চালকবিহীন আকাশযানের হুমকি প্রশমিত করতে ন্যাশনাল গার্ডের সম্পৃক্ততা এখন সময়ের দাবি।

কংগ্রেস সদস্যদের এই চিঠির পরদিনই ওয়াশিংটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনার’-এ এক বন্দুকধারী গুলি চালালে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আসরকে শুধু দর্শকদের জন্য উপভোগ্যই নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বিশ্বকাপ হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

এখনও পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র বিভাগ বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই চিঠির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, ড্রোন হুমকি এবং জননিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স