কানাডায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের 'অগ্রহণযোগ্য আচরণ' এবং ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফিফা কংগ্রেসে যোগ না দিয়েই ফিরে গেছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডার টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ইরান।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত মোম্বেনি এবং উপ-সাধারণ সম্পাদক হামিদ মোমেনি বৈধ ভিসা নিয়েই টরন্টো বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অপেশাদার আচরণ এবং অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে তারা প্রথম ফিরতি ফ্লাইটেই তুরস্কে ফিরে যান। ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, কানাডার বিমানবন্দরে তাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সম্মানিত অঙ্গসংগঠনকে নিয়ে কটূক্তি ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২৪ সালে কানাডা সরকার ইরানের ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কানাডীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মেহেদি তাজের সাথে এই সংগঠনের কথিত সম্পৃক্ততার কারণেই তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরী জানিয়েছেন, আইআরজিসি কর্মকর্তাদের কানাডায় কোনো স্থান নেই। তবে, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এই ঘটনাটিকে 'অনিচ্ছাকৃত' বলে বর্ণনা করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে অভিবাসন মন্ত্রীর সাথে কথা বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি আসন্ন বিশ্বকাপের আগে একটি বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিফার এজেন্ডায় ইরান ইস্যুটি সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ইরান দল ও সমর্থকদের অবাধ যাতায়াত নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ফিফা ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো খুব শীঘ্রই ইরানের কর্মকর্তাদের সাথে ফিফার সদর দপ্তরে একটি বিশেষ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
তবে বিশ্বকাপের আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে আয়োজক দেশের এমন কঠোর অবস্থান টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু আয়োজন নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিধি দলটি কেবল ফিফা কংগ্রেসই নয়, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাতেও অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।