বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান, চায় নিরাপত্তাও

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান। শনিবার ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের জাতীয় ফুটবল দল মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্ব আসরে মাঠে নামবে। তবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলেও স্বাগতিক দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছে তেহরান।

ইরান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, আসর চলার সময় তাদের জাতীয় দলের সদস্য এবং সফরকারী কর্মকর্তাদের কোনো  হয়রানি বা রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হতে দেয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তা স্বাগতিক তিন দেশকেই দিতে হবে।

ইরানের এই উদ্বেগের পেছনে একটি সাম্প্রতিক ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের। কিন্তু কানাডা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করে। অটোয়া প্রশাসনের দাবি, ওই কর্মকর্তার সাথে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইরজিসি) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডা এই বাহিনীটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

নিজেদের ফুটবল প্রধানকে ভিসা না দেওয়ার ঘটনাকে তেহরান 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান মনে করে, খেলার মাঠে রাজনীতির প্রভাব পড়া উচিত নয়। স্বাগতিক দেশগুলোর সাথে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ইরান বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ফুটবল ভক্তদের মাঝে স্বস্তি দিলেও আলোচনার টেবিলে উত্তাপ জিইয়ে রেখেছে।

এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো ইরানের দেয়া এই শর্তগুলোর প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ফিফা এই সংকট নিরসনে কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে কি না।