চলতি বছরের গ্রীষ্মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসতে যাচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’। তিন দশকের ব্যবধানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফিরে আসায় আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৯৪ সালের সেই স্মৃতি। তবে এবারের চিত্র ১৯৯৪ সালের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন ফুটবল ছিল দেশটির ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রান্তিক পর্যায়ে, আর আজ তা মূলধারার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৯৪ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্র শেষবার এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিলো, তখন দেশটিতে কোনো পেশাদার ফুটবল লিগ ছিলো না। জাতীয় দল গঠিত হয়েছিল মূলত সাবেক কলেজ শিক্ষার্থী, অপেশাদার এবং অনিয়মিত খেলোয়াড়দের নিয়ে।
ইউএস সকার ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সুনীল গুলাটি আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের শঙ্কার কথা স্মরণ করে বলেন, ৯৪ সালের আগে আমাদের প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল টিকিটের চাহিদা নিয়ে। সব টিকিট বিক্রি হবে কি না, তা নিয়ে আয়োজক কমিটি যথেষ্ট সংশয়ে ছিল।
সব বাধা পেরিয়ে সেই টুর্নামেন্টটি রেকর্ড গড়েছিল। প্রায় ৩৫ লাখ দর্শক মাঠে বসে খেলা দেখেছিলেন, যা ছিল প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৬৯ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র দল ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল এবং সেবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ওই আসরটিই মূলত দেশটিতে পেশাদার লিগ 'মেজর লিগ সকার' (এমএলএস)-এর বীজ বপন করে।
বত্রিশ বছর পর ফুটবল এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। সুনীল গুলাটির মতে, আজকের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে দাঁড়িয়ে যদি কেউ বলত যে ভবিষ্যতে এমএলএস-এ ৩০টি দল থাকবে, ২২টি ফুটবল-নির্দিষ্ট স্টেডিয়াম তৈরি হবে এবং গড়ে ২০ হাজার দর্শক খেলা দেখবে, তবে তা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হতো।
বর্তমানে ফুটবলের এই বিপ্লবের অন্যতম প্রভাবকগুলো হলো পেশাদার লিগের প্রসার, শুধু এমএলএস নয়, নারীদের লিগ এবং ইউএসএল-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগগুলোও এখন দারুণ সফল। জাতীয় দলের উন্নতি, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১৬তম অবস্থানে থাকা মার্কিন জাতীয় দল এখন বিশ্বের যেকোনো বড় শক্তির সাথে টক্কর দিতে প্রস্তুত। এছাড়া, ১৯৯৪ সালের মতো টিকিট বিক্রি নিয়ে এবার কোনো দুশ্চিন্তা নেই; বরং টিকিটের চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম।
তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। প্রান্তিক খেলা থেকে আজ এটি দেশটির একটি শক্তিশালী শিল্প ও আবেগের জায়গায় পৌঁছেছে। এবারের বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে শুধু সফল আয়োজনই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘সকার’ থেকে ‘ফুটবল’ হওয়ার এই যাত্রা ২০২৬ সালে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা।