আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মাঝেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সেক্রেটারি-জেনারেল মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের মধ্যে একটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে ফিফার পক্ষ থেকে বিশ্বকাপে ইরান দলকে স্বাগত জানানোর ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাফস্ট্রোম বলেন, ইরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আমাদের একটি চমৎকার ও গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। আমরা একে অপরের সাথে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছি এবং ফিফা বিশ্বকাপে তাদের স্বাগত জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজও বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকে তারা ইরানের পক্ষ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি দিয়েছেন। ফিফা প্রতিটি বিষয়ের মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং সেগুলোর সমাধানও প্রস্তাব করেছে।
তাজ আশা প্রকাশ করেন, সব বাধা পেরিয়ে তাদের জাতীয় দল কোনো সমস্যা ছাড়াই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে এবং সেখানে ভালো ফলাফল অর্জন করবে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে মূলত দুটি কারণে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। প্রথমত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান অভিমুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর তৈরি হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত।
দ্বিতীয়ত, চলতি মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশনের মারফত ইরান ফুটবল প্রধান মেহদি তাজের হেনস্থা ও দেশে ফেরত আসা।
বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও টরন্টোর প্রধান বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মেহদি তাজের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দলকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ইরানি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আচরণকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
মূলত ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ইরানের আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কানাডা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইআরজিসির সাথে কথিত সম্পর্কের জের ধরেই মেহদি তাজকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রবেশ করা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।
নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে যৌথ আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিটি ম্যাচ পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু বা মাঠেই অনুষ্ঠিত হতে হবে।
খেলোয়াড়দের ভিসা পাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালেও গ্রাফস্ট্রোম বলেছেন যে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে সমস্ত প্রয়োজনীয় এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে।
সব প্রতিকূলতার মাঝেই সোমবার ইরান দল তেহরান ছেড়ে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হবে একটি প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য। এরপর জুন মাসের শুরুতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসান শহরের 'কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স'-এ তাদের মূল ঘাঁটিতে গিয়ে উঠবে।
বিশ্বকাপে জি-গ্রুপে থাকা ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এই গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো বেলজিয়াম এবং মিশর।