বিশ্বকাপে ডাক পেয়ে বিয়েই ভেস্তে দিলেন কিউই গোলরক্ষক!

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাক পাওয়ার আনন্দ বোধহয় জীবনের অন্য সব সুখকেও হার মানায়! ঠিক এমনটাই প্রমাণ করলেন নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দল ও অকল্যান্ড এফসির ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক মাইকেল উড। আসন্ন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পেয়ে নিজের বিয়ের পিঁড়িতে বসার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনাই আপাতত ভেস্তে দিয়েছেন তিনি।

তবে ফুটবল বিশ্বের এই মেগা আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ার কাছে নিজের বিয়ে পিছিয়ে দেওয়াটাকে মোটেও ‘খারাপ কারণ’ মনে করছেন না এই কিউই তারকা।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক বছর আগে। প্রেমিকা জানা রেন্টনের সঙ্গে যখন মাইকেল উডের আংটি বদল হয়, তখন তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি যে কোচ ড্যারেন বেজলির বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তাঁর নাম থাকবে। সেই হিসাব কষেই আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই বিয়ের জমকালো উৎসব সারার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এই জুটি।


কিন্তু চলতি মাসে ঘোষিত নিউজিল্যান্ডের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ম্যাক্স ক্রোকম্বে এবং অ্যালেক্স পলসেনের পর তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে জায়গা নিশ্চিত হয় ৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উডের।

বিশ্বকাপের মাঠে হয়তো এক মিনিটের জন্যও গ্লাভস হাতে নামার সুযোগ পাবেন না উড, বেঞ্চেই কাটাতে হবে পুরোটা সময়। তবুও এই মহোৎসবে যোগ দিতে হবু স্ত্রী জানা রেন্টন সানন্দেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমকে উড বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলেন, আমার বাগদত্তা এই বিষয়ে আমাকে ভীষণ সমর্থন করেছে। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ তো আর প্রতি বছর আসে না, চার বছর পর পর আসে! তাই এর জন্য বিয়ে বাতিল করাটা মোটেও খারাপ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমরা নাহয় আগামী বছর বিয়েটা সেরে নেব।

Michael Woud
বিশ্বকাপের এই দলে মাইকেল উডের জায়গা পাওয়ার গল্পটাও কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার চেয়ে কম নয়। এ-লিগের মাঝপথে ফর্মহীনতার কারণে অকল্যান্ড এফসির শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য দেবী যেন তাঁর ওপর সহায় ছিলেন। তাঁর জায়গায় দলে আসা ওলিভার সেল গত জানুয়ারি মাসে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পেয়ে পুরো এ-লিগ মৌসুম ও বিশ্বকাপ খেলার দৌড় থেকে ছিটকে যান।

এই অপ্রত্যাশিত সুযোগটি দুই হাতে লুফে নেন উড। উডের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ভর করেই অকল্যান্ড এফসি তাদের ইতিহাসের প্রথম এ-লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ পায়। মেলবোর্ন সিটির বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে একমাত্র সেভটি করে দলকে জেতান তিনি।

এরপর গত উইকএন্ডে সিডনি এফসির বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড ফাইনালে ১-০ গোলের জয়ে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ক্লিন শিট রাখেন উড। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো নিউজিল্যান্ডের ক্লাব হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ঘরোয়া লিগ জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়ে অকল্যান্ড।

বিশ্বকাপে মাঠের বাইরে বসে সতীর্থদের বোতল এগিয়ে দেওয়া কিংবা গ্যালারি থেকে উৎসাহ দেওয়ার যে ভূমিকা,যাকে রসিকতা করে ‘ব্রাইডসমেইড’ বা কনের সই বলা হচ্ছে, তা নিয়ে উডের কোনো আফসোস নেই। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে শতভাগ পরিষ্কার উড বলেন, দলে আমার ভূমিকা কী, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে অন্য দুই কিপারকে মানসিকভাবে সমর্থন জোগানোই আমার মূল কাজ। আর যদি কোনো কারণে দেশের প্রয়োজনে আমাকে মাঠে নামতেই হয়, আমি আমার সেরাটা দেব।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দল নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ‘পার্সিয়ান লাইওনস’ ইরান, সালাহ-র মিশর এবং শক্তিশালী বেলজিয়ামের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে ব্ল্যাক ক্যাপসদের। বিয়ের বাদ্যি থামিয়ে উড এখন মাঠের যুদ্ধে চিল্কার করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত!