ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক এমন মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মেসি ভক্তদের জন্য এলো এক পরম স্বস্তির খবর। সম্প্রতি পাওয়া পেশির চোট কাটিয়ে দুর্দান্ত গতিতে সেরে উঠছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ম্যাচেও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ দিন আগে, যখন মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোলবন্যার ম্যাচে খেলতে গিয়ে পেশিতে টান লাগে ৩৮ বছর বয়সী মেসির। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবল জাদুকরের এই চোটে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শনিবার টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে এবং মঙ্গলবার আলাবামায় আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের শেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।
তার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ককে নিয়ে সুখবর দিয়ে স্কালোনি বলেন, লিও এখন বেশ ভালো আছে। সে ইতিমধ্যেই দলের সাথে অনুশীলনে অংশ নিয়েছে এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। সে এখন আর আলাদাভাবে অনুশীলন করছে না।
মেসিকে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়ে কোচ আরও যোগ করেন, তার শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে এবং সে হয়তো যে কোনো একটি প্রস্তুতি ম্যাচে কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নামতে পারে। সেটা আজকেও হতে পারে কিংবা পরের ম্যাচেও হতে পারে। তবে সে এখন অনেক ভালো আছে এবং এটি আমাদের পুরো দলকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে।
কেরিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার অপেক্ষায় থাকা মেসিকে দলে নেওয়ার মুহূর্তটির এক দারুণ মজার গল্প শুনিয়েছেন স্কালোনি। মুচকি হেসে আলবিসেলেস্তে বস বলেন, বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে আমি লিওকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। জবাবে সে আমাকে লেখে, সে চূড়ান্ত দল বা স্কোয়াডের তালিকার জন্য অপেক্ষা করছে, সেখানে তার নাম ডাক পড়ে কি না তা দেখার জন্য!
স্কালোনি হেসেই বলেন, আমি তখন তাকে পাল্টা মেসেজে লিখলাম, আরে ভাই, তুমি তো ইতিমধ্যেই দলে আছ! ব্যস, এভাবেই আমাদের কথা হয়েছিল।
২০২২ সালে কাতারের মাটিতে আর্জেন্টিনাকে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেয়া সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার এবারও আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্নসারথি। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ।
১৬ জুন আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-তে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। এখন দেখার বিষয়, চোট কাটিয়ে এলএম১০ আমেরিকার মাঠে তাঁর শেষ বিশ্বকাপে আবারও কেমন ম্যাজিক দেখান!