বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ কি তবে ফুরিয়ে গেছে? ফুটবল পণ্ডিতদের বড় একটা অংশ যখন রদ্রিগো-লুকাকুদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই এক জম্পেশ ও চটপটে জবাব নিয়ে হাজির হলেন বেলজিয়ান মাঝমাঠের জেনারেল আক্সেল উইৎসেল।
অভিজ্ঞ এই জিরোনা মিডফিল্ডারের মতে, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডটি মূলত ‘অভিজ্ঞতার মস্তিস্ক আর তরুণদের গতির’ এক মারাত্মক ফিউশন। আর, বুড়ো বনাম তরুণের এই ভারসাম্যই এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে বেলজিয়ামকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
চলতি গ্রীষ্মে রেড ডেভিলসদের হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন উইটসেল। দলে তাঁর সাথে অভিজ্ঞতার ঝুলি ও বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখাতে আছেন কেভিন ডি ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু, থমাস মুনিয়ের এবং থিবো কোর্তোয়ার মতো মহাতারকারা, যারা ২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বেলজিয়ামের সোনালী অধ্যায়ের মূল কারিগর ছিলেন।
রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে ইতিহাস গড়লেও, চার বছর আগে কাতারে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সেবার দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের বয়সই ছিল ত্রিশের কোঠায়। তবে এবার উইৎসেল আশাবাদী, কারণ ডি ব্রুইনে-লুকাকুদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এবার স্কোয়াডে যোগ হয়েছে জেরেমি ডকু, চার্লস ডি কেটেলিয়ারে এবং দোদি লুকেবাকিও’র মতো তরুণ তুর্কিদের বিধ্বংসী ফর্ম।
ফ্ল্যাশস্কোর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইৎসেল বলেন, "নতুন প্রজন্ম আর পুরোনোদের মধ্যে একটি দারুণ মেলবন্ধন ও ভালো বোঝাপড়া থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। ডি ব্রুইনে, লুকাকু বা কোর্তোয়ারা এখন একটু বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও আমাদের অভিজ্ঞতা তরুণদের পথচলা সহজ করে দেবে।"
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে বেলজিয়ামের প্রস্তুতি কিন্তু হয়েছে এক কথায় দুর্দান্ত। ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর গত শনিবার তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ১০ ম্যাচের ৫টিতেই অন্তত ৫টি বা তার বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে বেলজিয়াম। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এই জয়টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতিমূলক জয়।
আর এই জয়ের মূল নায়ক ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির উইঙ্গার জেরেমি ডকু। দুই অ্যাসিস্টের পাশাপাশি একাই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করে ৮টি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি।
অতীতের সাফল্যের রোমন্থন করতে গিয়ে উইৎসেলের মনে এখনো কাতার বিশ্বকাপের ক্ষত দগদগে। সততার সাথে তিনি স্বীকার করেছেন, বেলজিয়াম এখন আর আগের মতো সেই অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি নেই। অপটা সুপারকম্পিউটার এবার বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ধরেছে মাত্র তিন শতাংশ।
উইটসেলও এই হিসেব মেনে নিয়ে বাস্তববাদী সুরেই বলেছেন, আমাদের সৎ হতে হবে। বর্তমান বিশ্বে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী দল অনেক আছে। যেমন ফ্রান্স, ওরা এক কথায় অবিশ্বাস্য শক্তিশালী দল। এরপর আছে স্পেন আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আমরা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতায় বাস করছি। তবে কাতারে মরক্কোর রূপকথার উদাহরণ টেনে তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপে সব সময়ই বড় চমক অপেক্ষা করে।
১৫ জুন মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে তারা লড়াই করবে ইরান এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সালাহদের বিরুদ্ধে নামার আগে উইৎসেলের এই চটপটে ও বাস্তববাদী বয়ান বেলজিয়ান শিবিরে বাড়তি কোনো চাপ তৈরি না করে জল এনে দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!