স্বাগতিকদের মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাফানা বাফানা?

২০১০ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ইতিহাস গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সোনালী অধ্যায়ের দীর্ঘ ১৬ বছর পর, বিশ্বকাপে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটল ‘বাফানা বাফানা’ বাহিনীর। এবার তাদের মূল লক্ষ্য- অতীতের সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাসের প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখা। তবে গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য শুরুটা মোটেও সহজ হচ্ছে না।

রাতে ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচেই মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে তাদের লড়তে হবে চেকিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে। বিশ্বযুদ্ধের এই প্রথম মহড়ায় মেক্সিকোর চেনা কন্ডিশন আর লাখো ফ্যানের গর্জন রুখতে কেমন ছক কষছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রুস? চলুন দেখে নেয়া যাক এক জম্পেশ ও চটপটে বিশ্লেষণ।

South Africa 02
মোদাইবার ইনজুরি স্বস্তি ও রক্ষণভাগের গতিশীল ফরমেশন:
ম্যাচ শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো তাদের প্রধান লেফট-ব্যাক অব্রে মোদাইবার সুস্থতা। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের প্রথম লেগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার পর দ্বিতীয় লেগ এবং দেশের সব প্রস্তুতি ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি। তবে চলতি সপ্তাহে অনুশীলন শুরু করায় সরাসরি মূল একাদশেই দেখা যেতে পারে তাঁকে, যদিও পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ম্যাচ-ফিটনেস তাঁর আছে কি না তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।

ডিফেন্সের সেন্টারে ইমে ওকন এবং ম্বেকেজেলি ম্বোকাজিকে দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠে তেবোহো মোকোয়েনা, থালেন্দে ম্বাথা এবং ইয়ায়া সিথোলে—এই তিন সেনানিকে এক সাথে খেলানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে। কোচের মূল পরিকল্পনা থাকবে একটি গতিশীল ফরমেশন দাঁড় করানো, যেখানে দুই ফুল-ব্যাক খুলিসো মুদাউ এবং মোদাইবা ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠে উইংয়ে গতি ও ক্রস জোগান দিতে পারেন।

South Africa 01
তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার দ্বন্দ্ব ও ফরোয়ার্ড লাইনের গোলখরা:
কোচ হুগো ব্রুসের মূল মাথাব্যথার কারণ এখন আক্রমণভাগ এবং মাঝমাঠের ‘নাম্বার ১০’ পজিশন। ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত একটি মরশুম কাটানো ২০ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি রেলেবোহিলে মোফোকেনগকে খেলানো নিয়ে এক মধুর সমস্যায় আছেন কোচ। মোফোকেনগের পায়ে ধার থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চের স্নায়ুচাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নেই, তাই শুরু থেকে অভিজ্ঞ থেম্বা জোয়ানের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন ব্রুস।

অন্যদিকে স্ট্রাইকার পজিশনে লাইল ফস্টার দীর্ঘদিন ধরে গোলের খরায় ভুগছেন। জ্যামাইকার বিরুদ্ধে ক্লোজড-ডোর প্রীতি ম্যাচে তিনি গোল পেয়েছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও, ইকরাাম রেইনার্স বা এভিডেন্স মাকগোপাদের কেউই সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো পারফর্ম করতে পারেননি যা দিয়ে শুরুর একাদশে নিজেদের জায়গা পাকা করতে পারেন।

টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন দক্ষিণ আফ্রিকা: নিজেদের ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ফর্ম কিন্তু খুব একটা সুবিধার নয়। নিজেদের শেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো জয় পায়নি বাফানা বাফানা; যেখানে তাদের নামের পাশে আছে ৩টি ড্র এবং ২টি পরাজয়। অথচ এই দলটাই নাইজেরিয়ার মতো পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল!

South Africa 03
মেক্সিকো তাদের শেষ ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৬টিতেই কোনো গোল হজম করেনি (ক্লিন শিট)। তবে এই চোখ রাঙানো পরিসংখ্যান দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব একটা ভাবাচ্ছে না, কারণ বাফানা বাফানা নিজেদের শেষ ১১টি ম্যাচের ৯টিতেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে।

উপরন্তু, তাদের শেষ ছয় ম্যাচের ৫টিতেই দুই দলই গোল পেয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোচ হুগো ব্রুস সাধারণত রক্ষণ জমাট রেখে ‘কাউন্টার-অ্যাটাক’ কৌশলে খেলতে ভালোবাসেন। মাঠ বড় করে চড়াও হওয়া মেক্সিকান ফুটবলারদের গতি রুখতে তিনি একই চাণক্য নীতি ব্যবহার করবেন।

তবে ঘরের মাঠে লাখো উন্মাদ সমর্থকের সামনে মেক্সিকোর আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করা সাউথ আফ্রিকার জন্য মোটেও সহজ হবে না। ফুটবল পণ্ডিতদের সাম্প্রতিক প্রেডিকশন বলছে, আজ মাঠের লড়াই শেষে মেক্সিকো ৩-১ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করতে পারে। তবে, সব হিসাব-নিকাশ তোলা থাকল মাঠের ৯০ মিনিটের জন্য, এবার ফুটবলই কথা বলুক!