চলতি বিশ্বকাপের মঞ্চে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বড়ো ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিলো গ্রাহাম পটারের সুইডেন। ব্রাইটনের সুইডিশ তারকা ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোল এবং ভিক্টর গিওকেরেস ও আলেক্সান্দার ইসাকের চমৎকার বোঝাপড়ায় চূর্ণ হয়েছে ‘ভুলপ্রবণ’ তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ।
নিজেদের চেনা কন্ডিশনে সিয়েরা মাদ্রে পর্বতমালার পাদদেশে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর চরম স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যেই মাঠে গড়ায় ম্যাচটি। বৈরী আবহাওয়া ও ফিফার বিতর্কিত ‘ড্রিঙ্কস ব্রেক’ নিয়ে গ্যালারিতে দর্শকদের একাংশের অসন্তোষ থাকলেও, মাঠে সুইডিশদের নান্দনিক ফুটবলের সামনে তা ঢাকা পড়ে যায়।
এক বছর আগেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একটি ম্যাচও জিততে না পারা সুইডেন ছিল খাদের কিনারায়। সুইজারল্যান্ড ও কসোভোর কাছে টানা হার এবং স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর কোচ জন ডাল টমাসনকে বরখাস্ত করে ইংলিশ ম্যানেজার গ্রাহাম পটারকে দায়িত্ব দেয় সুইডিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
চেলসি ও ব্রাইটনের সাবেক এই কোচের অধীনে গত ৯ মাসে অবিশ্বাস্য এক রূপান্তর ঘটেছে সুইডেন দলের। নেশনস লিগের পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে প্লে-অফে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এই সহজ জয়টি পটারের সেই পুনর্জাগরণ প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান:
পজিশন:
সুইডেন ৫১% — ৪৯% তিউনিসিয়া
শট অন টার্গেট:
সুইডেন ৬ — ২ তিউনিসিয়া
শট অফ টার্গেট:
সুইডেন ৭ — ৪ তিউনিসিয়া
কর্নার:
সুইডেন ৪ — ২ তিউনিসিয়া
ফাউল:
সুইডেন ৮ — ৮ তিউনিসিয়া
ফলাফল:
সুইডেন ৫ — ১ তিউনিসিয়া
ম্যাচ শেষে রক্তাক্ত কান নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আসা পটার বলেন, দারুণ একটি রাত এবং দারুণ শুরু। এটি একটি শক্তিশালী দলীয় পারফরম্যান্স ছিরো, যা অ্যালেক্স (ইসাক) এবং ভিক্টরকে (গিওকেরেস) তাদের চেনা ছন্দে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে বারবার। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ব্যর্থতার পর সামি ত্রাবেলসির পরিবর্তে সাবরি লামুচিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় তিউনিসিয়া। লামুচি দলে ব্যাপক পরিবর্তন এনে আগের আসরে সুযোগ না পাওয়া ১১ জন নতুন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে টানেন, যার মধ্যে পাঁচজন এদিন প্রথম একাদশে ছিলেন।
তবে তিউনিসিয়ার নতুন গোলরক্ষক আবদেলমুহিব চামাকের মারাত্মক ভুলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সুইডেন। ম্যাচের ঠিক ছয় মিনিটের মাথায় ভিক্টর লিন্ডেলফের একটি উঁচু পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সে দুর্বলভাবে বল নামিয়ে দেন চামাক। গিওকেরেসের শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে জোরালো শটে সুইডেনকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়ারি।
কাকতালীয়ভাবে, আয়ারির জন্ম স্টকহোমে হলেও তার বাবা একজন তিউনিসীয়। ২০২১ সালে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন আয়ারিকে তাদের জাতীয় দলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, তার বাবাই তাকে অপেক্ষা করে সুইডেন দলে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বাবার সেই দেশের বিপক্ষেই জোড়া গোল করে সুইডেনের জয়ের নায়ক বনে গেলেন ব্রাইটনের এই মিডফিল্ডার।