মিশরের এক পয়েন্ট কেড়ে নিলো বেলজিয়াম, ত্রাতা সেই লুকাকু

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফারাওদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়টা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে বেলজিয়ামকে ব্যাকফুটে রেখেছিলো মিশর। কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে রোমেলু লুকাকু মাঠে নামতেই বদলে গেলো সব সমীকরণ। এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের তৈরি করা তীব্র চাপ আর এক আত্মঘাতী গোলে চূর্ণ হলো মিশরের জয়ের স্বপ্ন। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে নাটকীয় এক ড্রয়ে শেষ পর্যন্ত মিশরের মুঠো থেকে এক পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ‘রেড ডেভিল’রা।

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশে সময় দিবাগত রাত একটায় গ্রুপ ‘জি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় উত্তর আমেরিকার সিয়াটলে। তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতার মধ্যে দুপুরের কড়া রোদ আর ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬৬ হাজার ৭৭৫ জন দর্শকের সামনে মাঠে নামে দুই দল। অতিরিক্ত গরমের কারণে ম্যাচে বিতর্কিত ‘কুলিং ব্রেক’ও দিতে হয় রেফারিকে। গ্যালারিতে লাল ও সাদা রঙের এক বিশাল সমর্থক স্রোতের কারণে পুরো স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল খেলতে শুরু করে। রেফারি রামোন আবাত্তির কঠোর অবস্থানের কারণে শুরুর দিকেই দুই দলকে দুটি হলুদ কার্ড দেখতে হয়। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে মিশর। নিজের ৩৪তম জন্মদিনে মাঠে নামা তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ ডান দিক থেকে বল পেয়ে চমৎকারভাবে ঘুরে বাঁদিকে পাস বাড়ান।

ম্যাচের পরিসংখ্যান:

  • পজিশন:

বেলজিয়াম ৫৭% — ৪৩% মিশর

  • শট অন টার্গেট:

বেলজিয়াম ৩ — ৩ মিশর

  • শট অফ টার্গেট:

বেলজিয়াম ১২ — ১১ মিশর

  • কর্নার:

বেলজিয়াম ২ — ৭ মিশর

  • ফাউল:

বেলজিয়াম ১৪ — ১৫ মিশর

  • ফলাফল:

বেলজিয়াম ১ — ১ মিশর

বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ওপর থেকে শট নেন ইমাম আশুর। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার টমাস মিউনিয়েরের ঝুলন্ত পায়ের নিচ দিয়ে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। নিজের ৩০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে আল-আহলি মিডফিল্ডারের এই দারুণ গোলে উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো সিয়াটল স্টেডিয়াম। ১-০ তে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মিশর।

প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলো মিশরের রক্ষণভাগ। উইঙ্গার জেরেমি ডোকুকে কড়া মার্কিংয়ে রাখা হয় এবং লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড বারবার বল হারাচ্ছিলেন। কেভিন ডি ব্রুইনের দূরপাল্লার শটগুলোও মিশরের রক্ষণ দেয়ালে বাধা পাচ্ছিলো। উল্টো মিশর ডিফেন্সিভ না খেলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাউন্টার অ্যাটারে বেলজিয়ামকে ব্যস্ত রাখছিলো।

ম্যাচের গতিপথ বদলাতে ৬৬তম মিনিটে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া মাঠে নামান দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে। ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে নাপোলির হয়ে সেরি আ-তে মাত্র ৪০ মিনিট খেলায় তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ ছিলো। কিন্তু মাঠে নেমেই নিজের চেনা প্রভাব দেখান তিনি।

কোচ গার্সিয়ার এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। মিউনিয়েরের দ্রুতগতির একটি ক্রস যখন মিশরের বক্সে ঢোকে, তখন লুকাকুকে রুখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মিশরের দুই ডিফেন্ডার। বলটি লুকাকুর পা ছাড়িয়ে গেলেও তার তীব্র চাপের মুখে ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের মোহাম্মদ হানির বুটে লেগে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী এই গোলের সুবাদে ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ শিবিরে লুকাকুর তৈরি করা ভীতি নিয়ে কথা বলেন বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আপনি যখন প্রতিপক্ষ হিসেবে রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামতে দেখেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং উদ্বেগ বেড়ে যায়।

লুকাকুর ভূমিকা নিয়ে কোচ আরও যোগ করেন, এই গ্রীষ্মে রোমেলুকে নিয়ে আমরা অনেক দূর এগোতে চাই, তাই তার প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে। লক্ষ্য হলো চোটমুক্ত রোমেলুকে নিয়ে বিশ্বকাপে যতো দূর সম্ভব যাওয়া। আর সে যদি ‘সুপার সাব’ হিসেবে নেমে প্রতিবার এভাবে অবদান রাখতে পারে, তবে সেটা হবে দারুণ বিষয়।