ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করলো নরওয়ে। আর এই ঐতিহাসিক ফিরে আসাকে স্মরণীয় করে রাখতে কিলিয়ান এমবাপ্পের ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জের এক নির্মম জবাব দিলেন আর্লিং ব্রাউট হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে এমবাপ্পে জোড়া গোল করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, বিশ্বমঞ্চে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে তার মোক্ষম জবাব দিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। হালান্ডের এই বিধ্বংসী রূপের ওপর ভর করে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে নরওয়েজিয়ানদের সোনালী প্রজন্ম।
ক্লাব ফুটবলের চিরচেনা সেই খুনে মেজাজ দেশের জার্সিতেও ধরে রেখেছিলেন হালান্ড। টুর্নামেন্টে নরওয়ের দীর্ঘ পথ চলার আশা যে অনেকটাই এই গোলমেশিনের ওপর নির্ভরশীল, ম্যাচের প্রথমার্ধেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
হালান্ড বলেন, কোচ আমাকে সেরা বললেও এমবাপ্পে ও কেইন পরিসংখ্যানে এগিয়ে আছেন। মাঠে আজ আমাদের আগের সেই শক্তিই দেখতে পেয়েছেন। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আমরা অবশ্যই খুশি, তবে আমাদের শান্ত থাকতে হবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির ৬০ হাজার দর্শকের পুরো নজর ছিলো নরওয়ের ৯ নম্বর জার্সিধারী হালান্ডের ওপর। শুরুর দিকে আন্তোনিও নুসার একটি চমৎকার উঁচু পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে কিছুটা ব্যর্থ হলেও ম্যাচের ২৯তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তিনি। পুরো ম্যাচে ইরাকি ডিফেন্সকে বোকা বানানো নুসা ডেভিড মোলার উলফকে বল বাড়ালে, ব্যাক পোস্টে থাকা হালান্ড মাত্র দুই গজ দূর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে লিড এনে দেন (১-০)। নরওয়ের হয়ে শেষ কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এটি ছিলো তার ১১তম গোল।
৪০ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ইরাক অবশ্য সহজে মাঠ ছেড়ে দেয়নি। প্রথম গোল খাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ইতিহাস গড়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ছিলো ইরাকের দ্বিতীয় গোল। আলি জাসিমের পাস থেকে আমির আল-আম্মারির ক্রসে নরওয়ের ডিফেন্ডারদের টপকে দুর্দান্ত এক হেডে গোলরক্ষক নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করেন আয়মেন হুসেন (১-১)। তবে ইরাকের এই ঐতিহাসিক উল্লাস স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইরাকের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়েকে আবার এগিয়ে নেন হালান্ড (২-১)।
ম্যাচের পরিসংখ্যান:
- পজিশন:
নরওয়ে ৬২% — ৩৮% ইরাক
শট অন টার্গেট:
- নরওয়ে ৫ — ১ ইরাক
শট অফ টার্গেট:
নরওয়ে ৭ — ১০ ইরাক
- কর্নার:
নরওয়ে ৫ — ২ আলজেরিয়া
- ফাউল:
নরওয়ে ১৩ — ২২ ইরাক
- ফলাফল:
নরওয়ে ৪ — ১ ইরাক
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের আক্রমণভাগের চেয়ে বেশি পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের নড়বড়ে রক্ষণভাগকে। ম্যাচের শেষ দিকে আর্সেনাল তারকা ও নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডিগার্ডের তৈরি করা চমৎকার এক আক্রমণ থেকে দলের তৃতীয় গোলটি আসে। ওডিগার্ডকে এরপরই তুলে নেন কোচ সোলবাকেন। তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তেও হালান্ডের গোলক্ষুধা মেটেনি। ক্রিস্টোফার আয়েরের ক্রস থেকে হালান্ডের এক বিপজ্জনক হেডার ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রিস্টিয়ান থরস্টভেটের চাপে পড়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ইরাকের গোলদাতা আয়মেন হুসেন (৪-১)। ফলে বড়ো জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে নরওয়ের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কোচকে চিন্তায় রাখবে, যা হয়তো কিলিয়ান এমবাপ্পেরও নজর এড়াবে না। তবে এই জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দৌড়ে রাজকীয়ভাবেই পথ চলা শুরু করল নরওয়ে।
তবে আর্লিং হালান্ড বলেন, কোচ আমাকে সেরা বললেও এমবাপ্পে ও কেইন পরিসংখ্যানে এগিয়ে আছেন। মাঠে আজ আমাদের আগের সেই শক্তিই দেখতে পেয়েছেন। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আমরা অবশ্যই খুশি, তবে আমাদের শান্ত থাকতে হবে।