২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড়ো ধাক্কা খেলো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল। টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে জোয়াও নেভেসের শুরুর গোলটি প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ইয়োয়ানে উইসার হেডে বাতিল হয়ে যায়। ফিফার বিশেষ ছাড় পেয়ে মাঠে নামা ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অফ-ফর্মের দিনে এই ড্রয়ের ফলে দীর্ঘ ৫২ বছর (১৯৭৪ সালের পর) পর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট অর্জনের রূপকথা লিখল আফ্রিকান দেশটি।
ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চার নম্বর গোল। তবে আগাম গোল পেয়ে আক্রমণাত্মক হওয়ার বদলে পর্তুগিজ ফুটবলাররা খেলার গতি কমিয়ে দেয়। উদ্দেশ্যহীনভাবে বল পাস করে ম্যাচটিকে একপ্রকার অনুশীলনের পর্যায়ে নামিয়ে আনে তারা।
অন্যদিকে কঙ্গো পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়াতে থাকে। ফলস্বরূপ, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৫ মিনিট) নিউক্যাসলের উইঙ্গার ইয়োয়ানে উইসা অরক্ষিত অবস্থায় আর্থার মাসুয়াকুর চমৎকার ক্রস থেকে হেডে গোল করে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোয়াও ক্যানসেলোর একটি অ্যাক্রোব্যাটিক ওভারহেড শট জালে জড়ালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্য প্রান্তে কঙ্গোর সেড্রিক বাকাম্বু পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে পোস্টে আঘাত করলে নিশ্চিত পরাজয় থেকে বেঁচে যায় মার্তিনেজের দল। ম্যাচের শেষভাগে বদলি নামা ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও দুটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করে দিলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ইনফান্তিনোর বিশেষ অনুকম্পায় এক ম্যাচে নামিয়ে আনায় এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পান রোনালদো। তবে পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে তিনি ছিলেন নিস্প্রভ। এই নিয়ে টানা ৯টি বড়ো টুর্নামেন্টের ম্যাচে গোলহীন রইলেন আল নাসর তারকা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে যাওয়া বার্নার্দো সিলভাও ছিলেন মাঠের সবচেয়ে বড়ো হতাশা, যার কারণে হাফ-টাইমেই তাকে তুলে নেন কোচ।
ম্যাচের পরিসংখ্যান:
- পজিশন:
পর্তুগাল ৭৫% — ২৫% কঙ্গো
- শট অন টার্গেট:
পর্তুগাল ১ — ২ কঙ্গো
শট অফ টার্গেট:
- পর্তুগাল ৫ — ৪ কঙ্গো
- কর্নার:
পর্তুগাল ৫ — ৪ কঙ্গো
- ফাউল:
পর্তুগাল ৯ — ৯ কঙ্গো
- ফলাফল:
পর্তুগাল ১ — ১ কঙ্গো
অ্যানালাইসিস
পুরো ম্যাচজুড়ে পর্তুগালের তারকাখচিত স্কোয়াডের পারফরম্যান্স ছিলো চূড়ান্ত হতাশাজনক। মাঝমাঠে গোলদাতা জোয়াও নেভেস একা লড়াই করলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিটিনহা ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। রাইট উইংয়ে বার্নার্দো সিলভা স্রেফ ছায়া হয়ে থাকায় বিরতির সময়ই তাকে তুলে নেন কোচ। আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড়ো হতাশা ছিলেন ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো; ফিফার বিশেষ ছাড়ের সুবিধা মাঠে দেখাতে ব্যর্থ হয়ে ম্যাচের দুটি সহজতম সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি, যার ফলে টানা ৯টি বড়ো টুর্নামেন্টের ম্যাচে গোলহীন রইলেন এই তারকা। রক্ষণভাগেও ছিলো সমন্বয়হীনতা; টমাস আরাউহোর মারাত্মক অসচেতনতা ও গোলরক্ষক দিওগো কস্তার স্নায়ুচাপের সুযোগ নিয়ে ব্যাক-পোস্টে সংখ্যাধিক্যের সুবিধা আদায় করে গোল তুলে নেয় কঙ্গো। তবে ইনজুরিতে থাকা রুবেন দিয়াসের অনুপস্থিতিতে রেনাতো ভেইগার শারীরিক শক্তি ও জোয়াও ক্যানসেলোর সচল উইং প্লে কিছুটা স্বস্তি দিলেও নুনো মেন্ডেসের ফাইনাল থার্ডের ভুল পাসিং পর্তুগালকে তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত করেছে।