ইনস্টাগ্রামে হুট করেই ভোজিনহার ১৪ মিলিয়ন ফলোয়ার!

স্পেনকে রুখে দিয়ে ফুটবলবিশ্বে হইচই ফেলে দেওয়া কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহা অবশেষে তাঁর মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, মার্কিন ভিসা পেয়ে তাঁর মা আনা কান্দিদা এভোরা ইতিমধ্যেই উরুগুয়ের রাজধানী প্রেইয়া থেকে আমেরিকার বিমান ধরেছেন।

Cape Verde`s Vozinha 01
আগামী রোববার মায়ামি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্যালারিতে হাজির থাকবেন তাঁর মা। মাঠের নেপথ্যের এই আবেগঘন পুনর্মিলনী নিয়ে ভোজিনহা বলেন, "আমার জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমার পরিবার সব সময় সব কিছুতে আমাকে সমর্থন করে। মায়ামিতে আমার বাবা আর ভাইও আমার সাথে আছেন। ইস, যদি ভাইবোন আর ভাগ্নে-ভাগ্নিদেরও আনতে পারতাম! তবে জানি সব একসাথে করা কঠিন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কেপ ভার্দের মতো দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত দিতে হতো, যা পরে বিশ্বকাপ টিকিটধারীদের জন্য শিথিল করা হয়। স্পেনের বিরুদ্ধে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হওয়ার পর ভিসা জটিলতায় মায়ের আসতে না পারার দুঃখে ভোজিনহার কাঁদার ভিডিও ভাইরাল হতেই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁর মায়ের ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়।

Cape Verde`s Vozinha 02
মাঠের ভেতর যেমন স্পেনের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়েছেন, মাঠের বাইরেও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ধেয়ে এসেছে ফলোয়ারদের সুনামি। এক ব্রাজিলিয়ান টিভি চ্যানেলের কল্যাণে গত সোমবারের ম্যাচের আগে যেখানে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার ফলোয়ার ছিল মাত্র ৫০ হাজার, বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা রকেট গতিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৭ মিলিয়নে! এমনকি অনুশীলনে নামার আগেও স্থানীয় কেপ ভার্দেন সমর্থকরা সেলফি তোলার জন্য তাঁকে রীতিমতো ছেঁকে ধরছেন।

তবে এই আকাশছোঁয়া তারকাখ্যাতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দিচ্ছেন না এই ফোকাসড গোলকিপার। ক্লাবহীন (পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব চাভেসের সাথে চুক্তি শেষ হওয়া) এই অভিজ্ঞ বাজপাখি বিনীতভাবে বলেন, আমি সব সময়ই লক্ষ্যস্থির একজন মানুষ।

Cape Verde`s Vozinha 03
তিনি আরো যোগ করেন, এই বিপুল উন্মাদনা সামলানো সহজ নয়, তাই আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় যতটা সম্ভব কম সময় কাটানোর চেষ্টা করছি। কারণ আমি এখানে এসেছি ফুটবল আর বিশ্বকাপের স্বপ্নের জন্য, যা আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি। এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না যা আমার ফোকাস নষ্ট করবে। আমি সবার ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ, তবে দয়া করে এবার একটু ফুটবল নিয়ে কথা বলুন!

ভোজিনহার এই রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া দলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে কেপ ভার্দের মিডফিল্ডার ডেরয় দুয়ার্তে সতীর্থের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, ভোজিনহা অসাধারণ একজন মানুষ। আমরা সবাই ওর জন্য ভীষণ খুশি। মাত্র একটা ম্যাচ ওর পুরো জীবনটা বদলে দিয়েছে। এটা আসলে কোনো ডিস্ট্রাকশন বা মনোযোগের ব্যাঘাত নয়, বরং একটা আনন্দের বিষয়। বিশ্বকাপ যে মানুষের জীবন কীভাবে বদলে দিতে পারে, ও তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

Cape Verde`s Vozinha 04
উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভোজিনহা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনের সাথে ড্র করেই তাদের ক্ষুধা মিটে যায়নি। তিনি বলেন, আমরা এখানে স্রেফ অংশ নিতে আসিনি, আমরা প্রতিযোগিতা করতে এসেছি। অবাস্তব কোনো প্রত্যাশা আমরা করছি না, কারণ আমরা জানি আমরা খুব ছোট একটা দেশ ও দল। কিন্তু আমাদের দলে যথেষ্ট মান আছে এবং আমরা ভীষণ উচ্চাভিলাষী। এখন গ্যালারিতে পুরো পরিবারের উপস্থিতি উরুগুয়ের ধারালো আক্রমণভাগের সামনে এই বুড়ো বাজপাখিকে কতটা বলীয়ান করে তোলে, সেটাই দেখার অপেক্ষা!