প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিউনিসিয়া ফুটবল শিবিরে লেগেছে বড় ধাক্কা। সেই ভরাডুবির খেসারত হিসেবে চাকরি হারিয়েছেন কোচ সাব্রি লামৌচি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ মিশন বাঁচাতে এবার ডাগআউটে আনা হয়েছে ফ্রেঞ্চ ‘মাস্টারমাইন্ড’ হার্ভে রেনার্ডকে।
রোববার সকাল ১০টায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাইলফলক ছোঁয়া ১০০০তম ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে তিউনিসিয়া। এফ-গ্রুপের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচে রেনার্ডের জাদুতে তিউনিসিয়া ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি অপ্রতিরোধ্য জাপান শেষ বত্রিশের পথ সহজ করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা।
তিউনিসিয়াকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েও গত এপ্রিলে সৌদি আরবের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সী রেনার্ড। এবার তিউনিসিয়ার দায়িত্ব নিয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন তিনি। ২০১৪ সালে আইভরি কোস্ট, ২০১৮ সালে মরক্কো এবং ২০২২ সালে সৌদি আরবের পর এটি চতুর্থ কোনো দল, যাদের বিশ্বকাপের মঞ্চে কোচিং করাচ্ছেন এই ফ্রেঞ্চম্যান।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদির সেই ঐতিহাসিক ও রূপকথার জয়ের কারিগর ছিলেন এই রেনার্ডই। এবার তাঁর কাঁধে তিউনিসিয়াকে নকআউটে তোলার কঠিন সমীকরণ। গোল ব্যবধানে অনেক পিছিয়ে থাকায় তিউনিসিয়াকে পরের রাউন্ডে যেতে হলে বাকি দুই ম্যাচেই ইতিবাচক ফল পেতে হবে।
কাজটা অবশ্য তিউনিসিয়ার জন্য মোটেও সহজ হবে না। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজেদের সেরা ফর্মে না থেকেও দুইবার পিছিয়ে পড়ে ২-২ গোলে ড্র করেছিল জাপান। সাম্প্রতিক সময়ে প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের মতো জায়ান্টদের হারিয়ে টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স বা কালো ঘোড়া হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে এশিয়ান পরাশক্তিরা।
প্রতিপক্ষের শক্তি জানা সত্ত্বেও রেনার্ড নিজের দলকে চাঙ্গা করতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন যখন আমার সাথে যোগাযোগ করে, আমি এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করিনি। চ্যালেঞ্জটা কঠিন, তবে রোমাঞ্চকর। আমি ছেলেদের বলেছি মাথা উঁচু রাখতে এবং প্রথম ম্যাচের চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলে দেশের সম্মান রক্ষা করতে।
ইনজুরি আর একাদশের শক্তিতে দুই দলেই কিছু পরিবর্তন আসছে। তিউনিসিয়া শিবিরে নতুন কোনো চোটের সমস্যা না থাকলেও নতুন কোচ রেনার্ড আজ একাদশে বড় ধরনের রদবদল আনতে পারেন। অন্যদিকে, জাপান শিবিরে লেগেছে বড় ধাক্কা। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় আজ মাঠের বাইরে থাকছেন দলের পোস্টার বয় তাকেফুসা কুবো।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, বিশ্বকাপে এর আগে ২০০২ আসরের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, যেখানে ২-০ গোলে জিতেছিল জাপান। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলা শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে ‘সামুরাই ব্লু’ খ্যাত জাপান; একমাত্র হারটি ছিল ২০২২ সালের কিরিন কাপে ৩-০ ব্যবধানে।
তবে, আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি এশিয়ান জায়ান্টরা। এছাড়া ২০১৮ সালের পর খেলা শেষ ৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল হজম করেছে তারা, যদিও এর মধ্যে হেরেছে মাত্র ২টিতে। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে জাপানের করা ৭টি গোলের ৫টির সাথেই (৩টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট) জড়িয়ে আছে বদলি খেলোয়াড়দের নাম।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, নতুন কোচের অধীনে তিউনিসিয়া প্রথম ম্যাচের মতো অতটা বাজে খেলবে না ঠিকই, তবে কুবো না থাকলেও জাপানের নিখুঁত পাসিং আর স্কিলকে টেক্কা দেওয়ার মতো রসদ আফ্রিকার দলটির নেই। নিখুঁত প্রেডিকশন বলছে, আক্রমণ আর বল পজিশনে আধিপত্য ধরে রেখে জাপান ২-০ ব্যবধানে তিউনিসিয়াকে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেবে।