ফুটবল বিশ্বকাপের বি-গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচে রাত ১টায় ভ্যাঙ্কুভারে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও স্বাগতিক কানাডা। দুই দলেরই সংগ্রহ বর্তমানে ৪ পয়েন্ট করে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র একটি ড্র করতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে যাবে কানাডিয়ানরা। অন্যদিকে, সুইস কিংবদন্তি রিকার্ডো রদ্রিগেজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে সামনে আসা প্রতিটি দলকেই হারাতে হবে এবং গ্রুপে এক নম্বর হওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া কানাডা এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে, যেখানে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা জোনাথন ডেভিড। তবে কানাডার এই স্বস্তির মাঝে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়া।
তাঁর জায়গায় শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নাথান সালিভাকে। এছাড়া চোট কাটিয়ে ফিরতে পারেন অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস এবং ডিফেন্ডার মোইসে বোম্বিতো। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে কাতারের সাথে ১-১ ড্রয়ের পর বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া সুইজারল্যান্ড শিবিরে কোনো বড় চোটের সমস্যা নেই।
ফ্রান্সের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডই একমাত্র ইউরোপীয় দল, যারা গত টানা ৬টি প্রধান আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) প্রতিবার নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আর, সুইজারল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় (১,২৮৯ মিনিট) খেলার রেকর্ড রদ্রিগেজের। গ্রানিত জাকার সাথে যৌথভাবে সুইজারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তাঁর।
২০১৫ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারার পর থেকে টানা ১০ ম্যাচে (৬ জয়, ৪ ড্র) অপরাজিত রয়েছে কানাডা। অন্যদিকে, সুইসরা ২০২৪ সালে স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হারার পর থেকে তাদের শেষ ১১টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও কখনো গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েনি।
জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড ৪২ গোল নিয়ে কানাডার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে, সুইসদের প্রধান ভরসা ব্রিল এমবোলো, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ ইউরো, উভয় মঞ্চেই একাধিক গোল করা বিশ্বের মাত্র ৫ জন খেলোয়াড়ের একজন।
ম্যাচে কানাডার ঘরের মাঠের গতিশীল ফুটবল এবং সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের এক দুর্দান্ত লড়াই দেখতে পাবেন দর্শকরা। কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানিয়েছেন, তাঁর দল গোল দিয়ে এগিয়ে থাকলে সবচেয়ে সেরা ফুটবল খেলে। তবে, সুইসদের ভাঙা যে কতটা কঠিন, তা তারা ভালো করেই জানে।
ফুটবল বোদ্ধাদের কড়া প্রেডিকশন বলছে, সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে কানাডা যতই ফর্মে থাকুক না কেন, বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে খেলার অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা সুইজারল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানের এক দাপুটে জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই মাঠ ছাড়বে।মফিজুল গ্রেপ্তার ।।জুল গ্রেপ্তার ।।