বাঁচা মরার লড়াইয়ে সিয়াটলে মুখোমুখি বসনিয়া ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ আর বলকান অঞ্চলের লড়াই এবার আছড়ে পড়ছে আমেরিকার সিয়াটলে। বিশ্বকাপের বি-গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং কাতার। দুই দলের সামনেই সমীকরণটা একদম পরিষ্কার, নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২-এর আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, প্রথম দুই ম্যাচ শেষে দুই দলের ঝুলিতেই জমা হয়েছে মাত্র ১টি করে পয়েন্ট। আজ যারা হারবে, তাদের বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

সহ-আয়োজক দেশ কানাডার সাথে ১-১ ড্র করে বিশ্বকাপ যাত্রা দারুণভাবে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় বসনিয়ার ‘ড্রাগন’রা। অন্যদিকে, কাতারের অবস্থাও একই রকম। সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখালেও পরের ম্যাচে কানাডার কাছে ৬-০ গোলে চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে হয় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের। শুধু তা-ই নয়, ওই ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে দুই জন লাল কার্ড দেখায় ডিফেন্সিভ লাইনে বড়সড় ভাঙন ধরেছে কাতারের।

Bosnia-Herzegovina 01
বাঁচা-মরার এই ক্রুশিয়াল ম্যাচের আগে দুই দলই কার্ডের খড়গে জর্জরিত। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় রাতে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। তাঁর জায়গায় রক্ষণে দেখা যেতে পারে ডেনিস হাদজিকাদুনিচকে। তবে আক্রমণভাগে বরাবরের মতোই দলের প্রধান ভরসা হয়ে থাকবেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক এডিন জেকো।

কানাডার বিরুদ্ধে সেই দুঃস্বপ্নের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া হোমাম আহমেদ এবং আসিম মাদিবো আজ থাকছেন ডাগআউটে। তাদের পরিবর্তে রক্ষণ সামলাবেন সুলতান আল ব্রেইক এবং মাঝমাঠে দেখা যাবে করিম বুদিয়াফকে। আক্রমণে কাতারের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে থাকবেন আকরাম আফিফ।

রেকর্ডের পাতায় বুড়ো জেকো: ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক তারকা এডিন জেকো আজ মাঠে নামলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়বেন। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা (৪২ বছর ৩৯ দিন)। ১৪৪ ম্যাচে ৭৩ গোল করা জেকোই বসনিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

Qatar Team 01
কাতারের গোলমেশিন আলমোয়েজ আলি:
এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১২ গোল করা আলমোয়েজ আলি কাতারের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫৫ গোল)। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি গোলের দেখা পাননি। আজ খরা কাটানোর মোক্ষম সুযোগ তাঁর সামনে।

আইবেরিয়ান কানেকশন: কাতার ফুটবল দলের হেড কোচ হুলেন লোপেতেগুই হলেন দ্বিতীয় স্প্যানিশ কোচ, যিনি দলটিকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মজার বিষয় হলো, কাতারের শেষ ৬ জন কোচের সবাই এসেছেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (৪ জন স্প্যানিশ ও ২ জন পর্তুগিজ) থেকে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের লজ্জা এড়াতে দুই দলই মাঠের লড়াইয়ে জানপ্রাণ বাজি রেখে লড়বে। একদিকে বসনিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে স্প্যানিশ কোচ লোপেতেগুইয়ের অধীনে কাতারের ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন, সিয়াটলের মাঠে এক চরম নাটকীয় ফুটবল যুদ্ধ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী!