গ্রুপ সেরা হতে নেইমারদের সামনে চ্যালেঞ্জ স্কটল্যান্ড

ফুটবল বিশ্বের মহামঞ্চে সি-গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ভোর ৪টায় আমেরিকার মায়ামিতে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের পরাশক্তি ও পেন্টাজয়ী ব্রাজিল ও লড়াকু স্কটল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে দুই দলের সামনেই সমীকরণটা বেশ রোমাঞ্চকর।

ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে একটি ইতিবাচক ফল পেলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে যাওয়ার নতুন ইতিহাস গড়বে স্কটিশরা। অন্যদিকে, কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল নামছে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

Brazil Team 01
প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কোর কাছে ঠিক একই ব্যবধানে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে স্টিভ ক্লার্কের স্কটল্যান্ড। এর আগে বড় কোনো টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে) টানা ১২ বার অংশ নিয়েও কখনো প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হতে পারেনি ‘টার্টান আর্মি’রা।

এবার তাদের সামনে সেই অপবাদ ঘোচানোর মোক্ষম সুযোগ। তবে ইতিহাস কিন্তু স্কটল্যান্ডের পক্ষে কথা বলছে না; ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আগের ৮টি দেখায় একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা (৬ হার, ২ ড্র)। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফিরেছে সেলেসাওরা। মাথেউস কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চেনা ছন্দ ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দৌড়ে ফ্রন্টরানার হিসেবে প্রমাণ করেছে।

Scotland team 02
হাইতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন উইঙ্গার রাফিনিয়া। তাঁর জায়গায় ডান প্রান্তে দেখা যেতে পারে তরুণ তুর্কি রায়ানকে। তবে বড় খবর হলো, চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। যদিও কোচ আনচেলত্তি তাঁকে শুরু থেকেই মাঠে না নামিয়ে বদলি হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতা এবং আক্রমণে ভিনির সাথে থাকছেন কুনিয়া।

স্কটল্যান্ড শিবির: স্কটল্যান্ডের জন্য সুখবর হলো, চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন স্কট ম্যাককেনা, অ্যারন হিকি এবং লুইস ফার্গুসন। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন ও কিরান টিয়ারনির রক্ষণভাগের সামনে আজ মাঝমাঠ আগলে রাখবেন স্কট ম্যাকটোমিনে এবং জন ম্যাকগিন।

Brazil Team 02
গ্রুপ পর্বের রাজা ব্রাজিল:
বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে সবকটি (২৩টি) আসরে অংশ নেওয়া ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের রেকর্ড অবিশ্বাস্য। ১৯৮২ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপে এক নম্বর হয়েই প্রথম রাউন্ড শেষ করেছে সেলেসাওরা।

অনন্য আনচেলত্তি: কার্লো আনচেলত্তি প্রথম কোনো অ-ব্রাজিলিয়ান কোচ, যিনি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সেলেসাওদের ডাগআউটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভিনির জাদু: বিশ্বকাপে নিজের শেষ ৬ ম্যাচে সরাসরি ৬টি গোলে অবদান রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৩টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট)।

Scotland team 01
ম্যাকগিনের রেকর্ড:
কোচ স্টিভ ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোল করেছেন জন ম্যাকগিন, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো কোচের অধীনে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

যদিও স্কটল্যান্ড এই বিশ্বকাপে যথেষ্ট লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে, তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের যে গভীরতা, তা এক কথায় বিশ্বসেরা। রাফিনিয়া না থাকলেও ভিনি-কুনিয়াদের আটকানো স্কটিশ ডিফেন্সের জন্য এক প্রকার অসম্ভব মিশন। ফুটবল পণ্ডিতদের কড়া প্রেডিকশন বলছে, স্কটল্যান্ড হয়তো ব্রাজিলের জালে একবার বল পাঠাতে সক্ষম হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাম্বার আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ভেসে গিয়ে ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে ব্রাজিলই!