ফরাসি গতি আর বৈচিত্রে চুরমার নরওয়ে, প্রশ্ন রুখবে কে?

বিশ্বকাপে এমন কোনো দল আছে কি যাদের ফ্রান্সের অতি-গতিশীল, অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়ার মতো রক্ষণাত্মক শক্তি আছে? দেখা গেলো, দ্বিতীয় সারির নরওয়ের তা নেই। যারা বস্টনে প্রথমার্ধেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলো, যেখানে উসমান দেম্বেলে মাত্র ২৫ মিনিটে একটি চমৎকার ও নিখুঁত হ্যাটট্রিক করে ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

উসমান দেম্বেলের সেই বিধ্বংসী হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। এই বড়ো জয়ে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টিটু নিশ্চিত করলো দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সারির দল নামিয়ে ফরাসি আক্রমণভাগের সামনে স্রেফ ছিন্নভিন্ন হতে হলো নরওয়েকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে গ্রুপ সেরা হওয়ার এই অলিখিত ‘ইউরো-প্লেঅফ’ ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উন্মাদনা ছিলো। ম্যাচটিকে অনেকেই ‘এমবাপে বনাম হালান্ড’ কিংবা নর্ডিক গোলমেশিনের সঙ্গে প্যারিসিয়ান আক্রমণের দ্বৈরথ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে মাঠের বাস্তবতা ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে এমবাপেকে এদিন দেখা গেছে গোলের কারিগরের ভূমিকায়। আর হালান্ড তো ছিলেন একাদশেরই বাইরে!

ম্যাচে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন তার শুরুর একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে আর্লিং হালান্ডসহ দলের প্রধান ৯ জন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখার এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেন। দলের মূল ভরসা হালান্ডের অনুপস্থিতিতে নরওয়ের রক্ষণভাগ শুরু থেকেই চরম বিশৃঙ্খল ও ছন্নছাড়া ফুটবল প্রদর্শন করে। ম্যাচের প্রথম ২০ সেকেন্ডেই কিলিয়ান এমবাপের পাস থেকে ডান দিক দিয়ে ঢুকে ক্রসবারে বল মারেন দেম্বেলে।

ম্যাচের ছয় মিনিটেই ভাঙন ধরে নরওয়ের রক্ষণভাগে। এমবাপের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নরওয়ের দুজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দূরের কোণায় বল জড়ান দেম্বেলে। এরপর ২০ মিনিটে প্রায় একই জায়গা থেকে এমবাপের তৈরি করে দেওয়া বল ধরে নিচু ও জোরালো শটে দলের এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসকে মাঝমাঠে রেখে দেম্বেলেকে ডানদিকে একটু ছড়িয়ে খেলার যে কৌশল কোচ দেশম নিয়েছিলেন, তা শতভাগ সফল হয়। দেম্বেলে আবারও একই কোণ দিয়ে বল জালে জড়ালে প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটা চেষ্টা করেছিল নরওয়ে। ডানদিক দিয়ে অস্কার বব দারুণ কারিশমা দেখিয়ে ডি-বক্সে ঢুকলে ফরাসি ডিফেন্ডার থিও হার্নান্দেজ তাকে ফাউল করেন, ফলে পেনাল্টি পায় নরওয়ে। তবে হালান্ডের পরিবর্তে খেলতে নামা ইয়োর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি অনায়াসেই রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁ।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে ব্যবধান আরও বাড়ায় ফ্রান্স। ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে চতুর্থ গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় দেজিরে দুয়ে। পুরো ম্যাচে নরওয়ের গোলকিপার এগিল সেলভিককে যেন শুটিং অনুশীলনের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রেখেছিল ফরাসি স্ট্রাইকাররা।

এই দাপুটে জয়ের পর গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষে থাকা ফ্রান্স আগামী মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে তাদের শেষ-৩২ পর্বের ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে টেক্সাসে কোত দিভোয়ারের (আইভরি কোস্ট) মুখোমুখি হবে নরওয়ে।