ফিফা বিশ্বকাপের নকআউটের প্রথম পর্বের মঞ্চেই দেখা মিলছে এক পরম কাঙ্ক্ষিত ব্লকবাস্টার ধামাকার! মেক্সিকোর মন্টেরি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় যখন ফুটবলীয় যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো, তখন মাঠের লড়াইয়ে যে আগুনের ফুলকি ছুটবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে এবারের ডাচ বা ‘অরেঞ্জ’ বাহিনী গ্রুপ পর্বে রীতিমতো ইলেকট্রিক বা ফুটবল গতি উপহার দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোকে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা।
সান্ডারল্যান্ডে খেলা স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি মূল একাদশে সুযোগ পেয়েই মাঠ কাঁপাচ্ছেন এবং কোম্যানের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে গুনে গুনে ১০টি গোল উৎসব করেছে নেদারল্যান্ডস। তবে এই চোখ ধাঁধানো আক্রমণভাগের পেছনেই লুকিয়ে আছে কোম্যানের আসল মাথাব্যথার কারণ, ডাচদের রক্ষণভাগ বা ডিফেন্সিভ ইউনিট ততটাই নড়বড়ে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে ভন ডাইকদের।
অন্যদিকে, মরক্কোর মন্টেরির টিকিট কাটার পথটাও ছিল বেশ নাটকীয়। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের সি-গ্রুপ থেকে গোল ব্যবধানে সামান্য পিছিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে এসেছে তারা। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ডান প্রান্তে পিএসজির সুপারস্টার আশরাফ হাকিমি এবং আক্রমণভাগে বায়ার্ন মিউনিখের রাডারে থাকা ইসমায়েল সাইবারিকে নিয়ে মরক্কো যে কোনো রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।
মরক্কোর এই শক্তিকে বেশ সমীহ করছেন ডাচ বস রোনাল্ড কোম্যান। সংবাদ সম্মেলনে নিজের শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত নই যে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আমরাই ফেভারিট কি না। আমাদের খুব সতর্কভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এটি একটি বিশাল ম্যাচ হতে যাচ্ছে। মরক্কো খুব মানসম্পন্ন দল এবং ওরা খুব সহজেই গোল করতে পারে। তবে আমাদের ভালো খেলতেই হবে, কারণ এখন হারলেই বাড়ি ফিরতে হবে, আর জিতলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা যাবে।”
ডাচ শিবিরে প্রধান তারকা ব্রায়ান ব্রবি এবং ডেনজেল ডামফ্রিসকে নিয়ে কিছুটা চোটের শঙ্কা থাকলেও দুজনেই অনুশীলনে ফিরেছেন এবং শুরু থেকেই খেলবেন। এছাড়া লেফট-ব্যাকে নাথান আকের জায়গায় আজ মিকি ফন ডে ভেনের ফেরার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে হাইতির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে প্রধান তারকাদের বিশ্রাম দেওয়া মরক্কো আজ তাদের চেনা ও সেরা পূর্ণ শক্তির একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো পুরো টুর্নামেন্টের ৭টি ম্যাচ খেলে যে কয়টি গোল (৬টি) করেছিল, এবার মাত্র ৩ ম্যাচেই সেই সমান সংখ্যক গোল করে ফেলেছে! ২০২২ সালে প্রতি ম্যাচে তাদের শট নেওয়ার গড় ছিল যেখানে মাত্র ৯টি, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে!
বিপরীতে, ২০১০ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০ ম্যাচের ৭ ম্যাচেই জিতেছে ডাচরা। তবে তাদের শেষ ৫টি নকআউট ম্যাচের ৩টিই গড়িয়েছে টাইব্রেকারে, যার সর্বশেষটিতে ২০২২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-৩ ব্যবধানে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে ১৯৯৪ সালের গ্রুপ পর্বে একবারই দেখা হয়েছিল এই দুই দলের, যেখানে ডেনিস বার্গক্যাম্পের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ডাচরা।
ফুটবল পণ্ডিত ও ওপ্টা-র প্রেডিকশন বলছে, ডাচদের আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের পেছনের দেয়াল বা ডিফেন্সের যে বেহাল দশা, তার সুযোগ নিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারে মরক্কো। মন্টেরির মাঠে ডাচরা টিকবে নাকি আফ্রিকান সিংহের গর্জনে স্তব্ধ হবে বিশ্ব, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল দুনিয়া!