টাইব্রেকারের ভূত তাড়াতে আনচেলত্তির ‘মাইন্ড গেম’!

হিউস্টনের মাঠে রাতে জাপানের বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র টিকিট কাটতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ইতিহাস আর সাম্প্রতিক অতীত সেলেসাওদের মনে এক তীব্র কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। নকআউটের ম্যাচ মানেই টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষা, আর এই পেনাল্টি শুটআউটের নাম শুনলেই ব্রাজিলের চোখে ভেসে ওঠে দুটি টাটকা দুঃস্বপ্ন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে বিদায়। টাইব্রেকারের পুরনো ভূত তাড়াতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রণকৌশল ও মাইন্ড গেম নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্রাজিলের মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

Brazil Team 04
অতীতের দুই বিদায়ের পর ব্রাজিলের তৎকালীন কোচদের রণকৌশল নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। কাতারে টাইব্রেকারে নেইমারকে শেষ পেনাল্টি শ্যুটার হিসেবে রেখে মস্ত বড় ভুল করেছিলেন তিতে, যার খেসারত স্বরূপ নেইমারের শট নেয়ার আগেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। আবার কোপা আমেরিকায় দরিভাল জুনিয়র টাইব্রেকারের আগে খেলোয়াড়দের গোল হয়ে আলোচনার সময় পাত্তাই পাননি, যা নিয়ে হাসাহাসি হয়েছিল প্রচুর। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল ভক্তদের মনে প্রশ্ন, বিশ্বের অন্যতম সেরা চতুর কোচ আনচেলত্তি কীভাবে সামলান এই স্নায়ুযুদ্ধ?

Brazil Team 01
আনচেলত্তির পেনাল্টি দর্শনের মূল মন্ত্র হলো, মাঠে প্লেয়ারের টেকনিক বা দক্ষতার চেয়ে তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বা মানসিক জোর বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে থাকার সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দিয়ে আনচেলত্তির এই চিন্তাভাবনা পরিষ্কার বোঝা যায়।

সেদিন টাইব্রেকারে ব্রাজিলের তরুণ বিস্ময়বালক এনড্রিককে পেনাল্টি নিতে দেননি আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান এই ডন খোলসা করেছিলেন সেই রহস্য, আমাদের পঞ্চম শ্যুটার কে হবে তা নিয়ে দ্বিধা ছিল। কিন্তু আমি যখন এনড্রিকের মুখের দিকে তাকালাম, ওর চেহারা দেখে আমার মনে হলো রুডিগারই এর জন্য বেশি উপযুক্ত। আমাদের মনে হয়েছিল রুডিগার অনেক বেশি শান্ত ও স্নায়ু চেপে রাখতে সক্ষম।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তেরেসোপোলিসের ‘গ্রাঞ্জা কোমারি’তে ব্রাজিলের প্রথম সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্প থেকেই নিয়মিত পেনাল্টি প্র্যাকটিস করাচ্ছেন আনচেলত্তি। কে কেমন শট নিচ্ছেন, কার সাফল্যের হার কত, সবই তিনি ডায়েরিতে টুকে রাখছেন। তবে, শ্যুটারদের চূড়ান্ত তালিকা তিনি ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দেখে তৈরি করেন। কারণ আনচেলত্তি মনে করেন, টাইব্রেকার হলো স্রেফ একটা ‘লটারি বা টস’।

Brazil Training 06
নিজের এই দর্শন নিয়ে আনচেলত্তি অতীতে বলেছিলেন, আমি যখন পেনাল্টি শ্যুটার নির্বাচন করি, তখন টেকনিকের চেয়ে মানসিক দিকটাকে বেশি প্রাধান্য দিই। আপনি মানসিকভাবে ঠিক না থাকলে, টেকনিক্যালি যত ভালো শটই নিন না কেন, গোল করতে পারবেন না। আমি এমন অনেক বিশ্বমানের পেনাল্টি শ্যুটার দেখেছি, যারা মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় শেষ মুহূর্তে শট নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বর্তমানে ব্রাজিল দলে পেনাল্টি নেয়ার জন্য এক নম্বর পছন্দ নেইমার এবং ইগর থিয়াগো। আজকের এই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের ভাগ্য যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, তবে আনচেলত্তির এই মানস্তাত্ত্বিক ছকই নির্ধারণ করবে, পরবর্তী রাউন্ডে নরওয়ে নাকি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা!