সকালে উড়ন্ত মেক্সিকোর সামনে লড়াকু ইকুয়েডর

ঘরের মাঠে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় মেক্সিকোর ফুটবল রূপকথা এক নতুন বাঁকে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হচ্ছে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। মেক্সিকান ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে আলাদা। কারণ, সকালের ম্যাচে জিতলেই তারা ঘুচাতে পারবে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক নির্মম নকআউট অভিশাপ! ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কখনো জয়ের মুখ দেখেনি ‘এল ত্রি’রা।

১৯৮৬ সালে নিজেদের মাটিতেই বুলগেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল মেক্সিকো। কিন্তু এরপর টানা সাতটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় এবং ২০২২ সালে গ্রুপ পর্বের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। এবার ৪৮ দলের নতুন নিয়মে নকআউটে এক রাউন্ড বেশি খেলতে হলেও, ইকুয়েডরকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ‘চতুর্থ ম্যাচ’ জয় করাটা মেক্সিকোর জন্য হবে জাতীয় উৎসবের শামিল। গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচের ৩টিতেই জিতে কোনো গোল হজম না করা মেক্সিকো নিজেদের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই পা রাখছে।

Mexico Team 02
বিপরীতে, ইকুয়েডরের বিশ্বকাপের নকআউটের ইতিহাস খুবই সংক্ষিপ্ত। তাদের ফুটবল ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচ। এর আগে ২০০৬ সালে তারা প্রথমবার নকআউটে উঠেছিল, যেখানে ডেভিড বেকহ্যামের ফ্রি-কিক গোলে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের যাত্রাটা ছিল রোলারকোস্টারের মতো। আইভরি কোস্টের কাছে শেষ মুহূর্তের হারে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর নবাগত কুরাসাওয়ের সাথে ০-০ ড্র করে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল তারা। তবে নিউ জার্সিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের দল। জার্মানির মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করা ইকুয়েডর এবার মেক্সিকোকেও বড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত। বেকাসেসে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমরা কাউকে ভয় পাই না, তবে আত্মবিশ্বাসের সাথে আমাদের বিনয়ী ও সৎ থাকতে হবে।

আজকের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দু'দলেই কোনো ইনজুরির চিন্তা নেই। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বিশ্রামে থাকা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ মেক্সিকোর আক্রমণভাগ সামলাতে মূল একাদশে ফিরছেন। নজর থাকবে জুলিয়ান কুইনোনেসের ওপর, যিনি গ্রুপ পর্বে ২ গোল করেছেন এবং আর ২টি গোল করলেই মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

অন্যদিকে ইকুয়েডরের বড় ভরসা অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। সকালে মাঠে নামলেই তিনি দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ গোল করা ভ্যালেন্সিয়া চলতি টুর্নামেন্টে এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেননি, আজকের বড় মঞ্চেই হয়তো জালের খোঁজ চাইবেন এই বুড়ো হাড়।

Ecuador Team 01
ইতিহাস বলছে, মেক্সিকো ও ইকুয়েডর এ পর্যন্ত ২৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে মেক্সিকো জিতেছে ১৬টি ম্যাচে, ইকুয়েডর জিতেছে মাত্র ৪টিতে এবং বাকি ৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে দুই দলের শেষ ৩টি লড়াই-ই ড্রয়ে শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপে এর আগে ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে একবারই দেখা হয়েছিল দুই দলের, যেখানে মেক্সিকো ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর বিরুদ্ধে মেক্সিকোর রেকর্ড খুবই হতাশাজনক, ১৩টি ম্যাচের মধ্যে তারা ১১টিতেই হেরেছে এবং ২টিতে ড্র করেছে!

ফুটবল পণ্ডিত ও ওপ্টা-র চুলচেরা বিশ্লেষণ বলছে, জার্মানিকে হারিয়ে ইকুয়েডর যতই হুঙ্কার ছাড়ুক না কেন, আক্রমণভাগে তাদের গোল করার অভাব কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর এস্তাদিও আসতেকার গর্জনে মেক্সিকো আজ ২-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে হারিয়ে নকআউটের জুজু কাটাতে পারে। মেক্সিকোর ৪০ বছরের ক্ষোভ আজ মিটবে নাকি ইকুয়েডর লাতিন পরাশক্তিদের ঐতিহ্য ধরে রেখে ঘরের মাঠে মেক্সিকানদের পার্টি নষ্ট করে দেবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল দুনিয়া!