বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার এক অবিশ্বাস্য ডেভিড বনাম গোলিয়াথ লড়াইয়ের গল্প লেখার পালা! বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে এক চিলতে দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দর্প চূর্ণ করতে। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচের আগে স্বয়ং কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস হুঙ্কার দিয়ে বসেছেন, লিওনেল মেসির বিশ্বসেরা দলটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেবে তার দেশ। বিশ্বরাজনীতির চেনা হিসেবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি সোজা জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জেতার সুযোগ তাদের ‘১০০ ভাগ’ রয়েছে।
আগামী শুক্রবার মিয়ামির সবুজ গালিচায় যখন নীল হাঙর (ব্লু শার্কস) খ্যাত কেপ ভার্দে আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের ফুটবল তো বটেই, মাঠের বাইরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটাও জমবে বেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল আর্জেন্টিনার চেয়ে পাক্কা ৬৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা এই আফ্রিকান পুঁচকে দলটি যে এবার সব ভবিষ্যৎবাণীকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতেই অভ্যস্ত!
আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের পুঞ্জ নিয়ে গঠিত ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে এসেই ইতিহাস গড়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তি এখন তাদেরই। গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেওয়া (যেখানে নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহা) কিংবা দুইবারের বিশ্বসেরা উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সাথে বুক চিতিয়ে ড্র করা, সবই জানান দিচ্ছে, এই দলটির হারাবার কিছু নেই, কিন্তু পাওয়ার আছে পুরো আকাশ।
প্রেসিডেন্ট নেভেস যেন এই ‘আন্ডারডগ’ তকমাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছেন। রাজধানী প্রাইয়াতে বসে বিবিসিকে দেওয়া এক রসালো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যখন কোনো দলের প্রতি বাইরের প্রত্যাশা শূন্য থাকে, অথচ দলের ভেতরে জেতার তীব্র ক্ষুধা থাকে, তখন যেকোনো মিরাকল ঘটানো সম্ভব। তিনি আরও যোগ করেন, তারা এই বিশ্বকাপে এসেছেন বিশ্বসেরাদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের রক্তে লিখতে।
প্রেসিডেন্টের এই আগ্রাসী সুরের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে দলের হেড কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো (যিনি বুবিস্তা নামে পরিচিত) এবং মিডফিল্ডার ডেরয় দুয়ার্তের কণ্ঠেও। গায়ে দেশের পতাকা জড়িয়ে বুবিস্তা স্পষ্ট ভাষায় হুঙ্কার দিয়েছেন, আমাদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। অন্যদিকে দুয়ার্তে যেন এখনো এক রঙিন স্বপ্নের ঘোরে আছেন, যেখানে মেসির বিপক্ষে লড়াইটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলেই বিশ্বাস তার।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সাহসী রূপকথা যদি কোনো কারণে ট্র্যাজেডিতেও রূপ নেয়, তাতেও বিন্দুমাত্র আফসোস নেই কেপ ভার্দের। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, মিশন সফল করার তৃপ্তি নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ব। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে মায়ামির আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন, মেসির জাদুকরী পা নাকি কেপ ভার্দের হাঙরদের কামড়, শেষ হাসি হাসবে কে?