নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এখন খলনায়ক মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। প্রথমার্ধে তাঁর নেওয়া একটি পেনাল্টি মিসের খেসারত দিতে হয়েছে পুরো দলকে। ব্রাজিলের এই হৃদয়বিদারক বিদায়ের পর নেটদুনিয়ায় এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়, ব্রুনো গিমারায়েস তাঁর ক্যারিয়ারে কতটি পেনাল্টি নিয়েছেন এবং কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো মহাতারকা থাকতে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলো?
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রুনো গিমারায়েস তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে মোট ৯টি পেনাল্টি নিয়েছেন (৫টি টাইব্রেকারে এবং ৪টি নির্ধারিত সময়ে)। নরওয়ের বিপক্ষে নেওয়া পেনাল্টিটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় মিস! এর আগে তিনি ৯টির মধ্যে ৭টি পেনাল্টিতেই সফলভাবে বল জালে জড়িয়েছিলেন।
২০১৯ সালে ফ্লেমিঙ্গো ও গ্রেমিওর বিপক্ষে অ্যাথলেটিকোর হয়ে, ২০২০ ও ২০২১ সালে অলিম্পিক লিঁওর হয়ে এবং ২০২৪ ও ২০২৬ সালে নিউক্যাসলের হয়ে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন। ২০২৬ সালের এফএ কাপে বোর্নমাউথের বিপক্ষে তিনি প্রথম পেনাল্টি মিস করেছিলেন, আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় মিসটি করলেন বিশ্বকাপের মতো মহমঞ্চে নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ন্যালান্ডের কাছে। ম্যাচের শেষ দিকে ক্যাসেমিরোর আদায় করা পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করে ব্যবধান কমালেও তা কেবল সান্ত্বনাই জুগিয়েছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করেছেন কেন তিনি ভিনিসিয়ুসকে বাদ দিয়ে ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আনচেলত্তি বলেন, আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের এক বছরের পেনাল্টির পরিসংখ্যানের একটি ডেটাবেস তৈরি করেছিলাম। আমাদের তালিকায় এক নম্বরে নেইমার, তারপর ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস এবং পঞ্চম স্থানে ছিল মার্তেনেলি। যেহেতু রাফিনিয়া ও ইগর মাঠে ছিলেন না, তাই ব্রুনোকেই দায়িত্ব দেয়া হয়। তাছাড়া আমরা ভেবেছিলাম ব্রুনো ওই মুহূর্তে মাঠের সেরা খেলোয়াড় ছিল।
কোচের এই পরিসংখ্যানের তত্ত্বকে সমর্থন জুগিয়েছেন স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ভিনি বলেন, কোচ আগেই ঠিক করে দেন কে পেনাল্টি নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনো অহংকারী ছিলাম না যে আমাকেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে হবে। ও আমার চেয়ে অনুশীলনে ভালো পেনাল্টি মারে, তাই কোচ ওকে পছন্দ করেছিলেন। ব্যস, এটুকুই। সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, অনেকেই বলবে আমি দায়িত্ব নিতে ভয় পেয়েছি, কিন্তু আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও কোচ যখন বলেন, আমি পেনাল্টি নিই। আমাদের এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
এই লজ্জাজনক বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরো পোর স্বপ্ন আরও দীর্ঘায়িত হলো। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জেতার পর সেলেসাওদের শিরোপার খরা এখন দাঁড়িয়েছে দীর্ঘ ২৮ বছরে! যা ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যকার ২৪ বছরের খরাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এটিই এখন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম শিরোপাহীন বন্ধ্যাত্ব। আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে যখন ব্রাজিল মাঠে নামবে, ততদিনে ট্রফি ছাড়া কেটে যাবে আস্ত সাতটি বিশ্বকাপ সংস্করণ! পরিসংখ্যানের চক্করে পড়ে ব্রাজিলের এই ট্র্যাজেডি সাম্বা ভক্তদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ক্ষত হয়ে থাকবে।