শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টারে স্পেন, বিষণ্ণ বিদায়ে CR7

নাটকীয়তায় ঠাসা এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে উল্লাসে মাতে স্প্যানিশরা। আর এই হারের মধ্য দিয়ে ফুটবলবিশ্ব সাক্ষী হলো এক বিষণ্ণ অধ্যায়ের—বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে অশ্রুসিক্ত চোখে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই মহানাটকীয় ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের থ্রু-বল ধরে দারুণ ঠাণ্ডা মাথায় পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন মেরিনো। গোলটির পর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে গিয়ে মেরিনোর উদ্‌যাপন মনে করিয়ে দিয়েছে দুই বছর আগে ইউরোতে জার্মানির বিপক্ষে তার করা ঐতিহাসিক গোলের স্মৃতি। একই সঙ্গে এটি ছিলো ১৯৯১ সালে স্টুটগার্টে ওসাসুনার হয়ে তার বাবার করা গোল উদ্‌যাপনের এক আবেগঘন প্রতিধ্বনি।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে একাকী, শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেও, নিজের শেষ বিশ্বকাপে আর কোনো গোল করা হলো না তার। ৪১ বছর বয়সে এসে অবশেষে থামলো তার এই অবিশ্বাস্য আন্তর্জাতিক দীর্ঘযাত্রা।

কাতারে গত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে যখন একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিলো, তখন থেকেই রোনালদোর বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিলো। তবে তার এই শেষ বিদায়টি জাঁকজমকপূর্ণ তো নয়ই, বরং বেশ নিষ্প্রভ ও বিষণ্ণ ছিল। মাঠের খেলায় আগের সেই চেনা গতি বা ধার ছিলো না সিআরসেভেনের। বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়া এবং ম্যাচের শেষ দিকে গতি হারিয়ে রাইট-ব্যাককে ব্যাক-পাস দিতে বাধ্য হওয়ার দৃশ্যগুলোই বলে দিচ্ছিলো—সময় ফুরিয়েছে তার।

মাঠে সতীর্থদের কাছে অনবরত বল চাওয়া, ফাউলের পর রেফারির দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকানো কিংবা ব্যর্থতায় মুখ বিকৃত করার সেই চিরচেনা ভঙ্গিগুলো কেবলই তার সোনালী অতীতের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছিলো।

তারকাদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে বেশিরভাগ সময় আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেনই। এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা রদ্রি মাঝমাঠে দারুণভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পর্তুগালের নুনো মেন্দেস স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে কড়া পাহারায় রেখেছিলেন এবং প্রথমার্ধে মেন্দেসের একটি শট বারেও লেগেছিল। তবে মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর বার্সেলোনার কিশোর উইঙ্গার ইয়ামাল আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।

যদিও দুই বছর আগের ইউরোর সেই বিধ্বংসী রূপ এই স্প্যানিশ শিবিরে কিছুটা অনুপস্থিত ছিলো এবং নিকো উইলিয়ামসের অভাবও টের পাওয়া গেছে, তবুও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য তাদের এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিলো।

ম্যাচ শেষে টিভি ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের সামনে দিয়ে পর্তুগিজ মহানায়ক যখন সুড়ঙ্গ ধরে ড্রেসিংরুমের অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে আসে এক নিস্তব্ধতা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ক্যারিয়ারের এমন মলিন সমাপ্তি কোটি ফুটবল ভক্তকে আবেগাপ্লুত করেছে।

পর্তুগালকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা স্পেন আগামী শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের।