ম্যাচ মুখ খুললেন মেসি, জানালেন একদম ভিন্নমত!

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটিতে রেফারিং নিয়ে যখন মাঠের বাইরে বিতর্কের ঝড় বইছে, তখন অন্য্য মেজাজে ধরা দিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ম্যাচের পর সব বিতর্ককে একপাশে ঠেলে দিয়ে এই ‘আলবিসেলেস্তে’ অধিনায়ক আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক রূপকথার প্রত্যাবর্তনকে দেখছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চশমায়। নাটকীয় ফিনিশিংয়ের পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি; ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে আনন্দের অশ্রু।

৩-২ ব্যবধানের এই অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর মেসি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই জয় কতটা আবেগের ছিল।

Messi 02
৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে যখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হন আর্জেন্টিনার সেই চেনা 'নম্বর ১০'। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করে খলনায়ক বনে যাওয়ার উপক্রম হলেও, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ২-২ সমতাসূচক গোলটি করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। আর এই গোলের মাধ্যমে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার (৮টি গোল) আসনটিও নিজের করে নিয়েছেন মেসি।

ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা স্বীকার করেছেন, প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য নরককুণ্ড পার হওয়ার মতো কঠিন হচ্ছে, তবে এটাই বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য।

মেসি বলেন, আমাদের আবারও প্রচুর ভুগতে হয়েছে, কিন্তু এটাই তো বিশ্বকাপ! প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন হচ্ছে কারণ এখানে সব দলই সমানে সমান। ২-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর কাজটা অসম্ভব কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেখান থেকে কামব্যাক করাটা অবিশ্বাস্য রকমের আবেগের।

অসম্ভব পরিস্থিতি থেকেও হাল না ছাড়ার জন্য নিজের সভিজাত সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এই মহিমান্বিত অধিনায়ক। দলের ইস্পাতকঠিন মানসিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো মোটেও সহজ কথা নয়। কিন্তু এই দলটা কখনো হাল ছাড়তে জানে না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাই। আজকের এই নক-আউট ম্যাচে আমাদের দল যা করে দেখিয়েছে, তা শুধুই অবিশ্বাস্য!

Messi 03
কদিন আগেই ৩৯তম জন্মদিনের কেক কেটেছেন, কিন্তু মাঠে তার ধার কমেনি একবিন্দুও। পুরো ম্যাচ খেলেছেন, সেসাথে আগের রাউন্ডে কেপ ভার্দেওর বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ৩-২ গোলের ঘামঝরানো জয়ের পর এবার মিশরের বিপক্ষেও দলকে দেখালেন রূপকথার পথ।

এই টুর্নামেন্টেই ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়া মেসি যেন থামতেই জানেন না!

সব বিতর্ক আর সংশয় পেছনে ফেলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চোখ এখন শুধুই কোয়ার্টার ফাইনালে। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশন একহাতে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মহাকাব্য লিখছে!

তথ্যসূত্র: মারকা