চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করে গোলবন্যার রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্স। কিন্তু তাতেও মন ভরছে না ফরাসি সেনাপতি দিদিয়ে দেশমের! বৃহস্পতিবার বোস্টনে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের মহাযুদ্ধের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের শিষ্যদের গোলমুখে আরও বেশি ‘নিষ্ঠুর’ এবং দক্ষ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই মরক্কোকেই কাঁদিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। তবে দেশম ভালো করেই জানেন, এবারের মরক্কো আর সেই আগের মতো ‘চমক’ দেখানোর জন্য খেলতে আসা কোনো আন্ডারডগ দল নয়; বরং বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে সরাসরি বিশ্বজয়ের মিশন নিয়ে আসা এক ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ।
কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিস এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফরোয়ার্ড লাইন বলা হচ্ছে। তবে, শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এমবাপের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানের এক ঘামঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ফরাসির দল। টুর্নামেন্টে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ৭টি, যা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির (৮ গোল) ঠিক পরেই।
দলের এই গোলবন্যা সত্ত্বেও ফরোয়ার্ডদের কার্যকারিতা নিয়ে দেশম বলেন, আক্রমণভাগে আমাদের আরও অনেক বেশি দক্ষ হতে হবে। কখনো দেখা যায় আমরা ছয়টি সুযোগ পেয়ে মাত্র দুটি গোল করছি, আবার কখনো দুটি সুযোগের দুটোই কাজে লাগাচ্ছি। সুযোগ নষ্টের এই বিলাসিতা এবার বন্ধ করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই বিভাগেই মরক্কোর বিশ্বমানের শক্তি রয়েছে।
গ্রুপ পর্ব অনায়াসে পার করে নক-আউটে নেদারল্যান্ডস এবং সহ-আয়োজক কানাডাকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে মরক্কো। মরক্কোর এই রুদ্ররূপ দেখে বেশ সতর্ক দেশম। প্যারাগুয়ের সাথে তাদের তুলনা করতে নারাজ এই ফরাসি কোচ।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মরক্কো আর প্যারাগুয়ের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। এরা কিছু দিন আগেই আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল খেলেছে। এদের দলে একাধিক বিশ্বমানের ম্যাচ উইনার আছে। ওরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসেনি, এসেছে বিশ্বকাপ জিততে। এই দুর্দান্ত দলটির বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।
ম্যাচের আগে ফরাসি শিবিরে ইনজুরি আর নিষেধাজ্ঞার নাটকও জমে উঠেছে। পেশির চোটের কারণে প্যারাগুয়ে ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনি সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বুধবার তার অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে। তবে তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেন দেশম।
অন্য দিকে, প্যারাগুয়ে ম্যাচে অলিসের দেখা বিতর্কিত হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন ফিফা সরাসরি ‘খারিজ’ করে দিয়েছে। মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফা রাতারাতি মওকুফ করে দিয়েছিল, সেখানে ফ্রান্সের যুক্তিযুক্ত আপিল ফিফা নাকচ করায় ফরাসি শিবিরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই হলুদ কার্ড বহাল থাকায় মরক্কোর বিরুদ্ধে অলিসকে খেলতে হবে চরম সতর্কতায়, কারণ আরেকটি কার্ড দেখলেই কপাল পুড়বে তার, মিস করবেন সেমিফাইনাল! মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বৃহস্পতিবারের ম্যাচটিকে এক চরম রোমাঞ্চে ঠাসা লড়াইয়ে পরিণত করেছে!