ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই তো জমে ক্ষীর, তবে তার চেয়েও বেশি জমজমাট হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের তারকাদের ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ খোঁচাখুঁচি! গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্স বনাম মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের সেই বহুল আলোচিত পেনাল্টি মিস নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। টেলিভিশন পর্দায় চোখ রাখা এই ভাইকিং তারকা সরাসরি দাবি করেছেন, এমবাপেকে শট নেয়ার আগে বড্ড বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে এমবাপ্পে পেনাল্টি আদায় করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দীর্ঘ নাটকের কারণে তাঁকে লাইনের ওপর তিন মিনিটেরও বেশি সময় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর নেয়া দুর্বল শটটি মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো অনায়াসে আটকে দিলে ফরাসি শিবিরে হাহাকার নেমে আসে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বই এমবাপ্পের মনোযোগ নষ্ট করেছে।
আর দেশমের এই সুরে সুর মিলিয়েই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড তাঁর স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে এমবাপের পেনাল্টি মিসের একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে বেশ রসিয়ে লিখেছেন, একটা পেনাল্টি শট নেওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করা বড্ড বেশি দীর্ঘ সময়!
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে অবশ্য ম্যাচের ৬০ মিনিটে এক জাদুকরী গোল এবং পরবর্তীতে উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে আরেকটি গোল করিয়ে ফ্রান্সের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেছিলেন ফরাসি অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ৮ম গোল পুঁজিতে নিয়ে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের শীর্ষস্থানে বসেছেন রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা এমবাপে, যা হালান্ডের চেয়ে ঠিক একটি গোল বেশি।
ম্যাচ শেষে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লাক্যুইপের কাছে নিজের পেনাল্টি মিসের ইনসাইড স্টোরি অকপটে স্বীকার করে এমবাপে বলেন, আমি শটটি সত্যিই খুব বাজেভাবে নিয়েছিলাম। কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের কারণে মাঠের ভেতর তখন এত বড় কনফিউশন তৈরি হয়েছিল যে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ছিল। আমি ওসমানের (দেম্বেলে) সাথে ওয়ান-টু খেলে বল নিয়ে যখন প্রস্তুত হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই আমাকে বলা হলো, কোনো পেনাল্টি নাও হতে পারে এবং আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ব্যাস, আমি আমার পুরো ফোকাস হারিয়ে ফেললাম।
এমবাপে আরও যোগ করেন, পেনাল্টি নেওয়ার আগে মানসিকভাবে শক্ত থাকার জন্য তিনি মাথায় অনেক রকম পরিস্থিতির ছক কষে রাখেন, কিন্তু রেফারির এমন দোলাচল আর পেনাল্টির লাইনে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই দেখার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে আগে কখনো হয়নি। তবে এই ‘পোস্টার বয়’ দমে যাওয়ার পাত্র নন, সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, পরের বার এমন পরিস্থিতি হলে আমি নিজেকে মানিয়ে নেব। সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে নামার আগে হালান্ডের এই সহমর্মিতা মেশানো খোঁচা এমবাপ্পেকে কতটা তাতিয়ে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন