সুইস দুর্গ ভেঙে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

নাটক আর রোমাঞ্চে ঠাসা এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন পেনাল্টি শুটআউটের দিকে এগোচ্ছিলো, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ২৫ গজ দূর থেকে তার এক চোখধাঁধানো গোল আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসায়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয়ে আগামী বুধবার আটলান্টায় বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।

কলম্বিয়াকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে আসা সুইজারল্যান্ড শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশলে আর্জেন্টিনাকে বোকা বানানোর ছক কষেছিল। কিন্তু ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই তাদের সেই দুর্গ ভেঙে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। লিওনেল মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনার আধিপত্যের মাঝেই প্রথমার্ধের আধঘণ্টা পেরোনোর পর ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করে। সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডোয়ে ও ব্রিল এমবোলো মিলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরান। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ক্ষিপ্রতায় প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয় হাফে ম্যাচের গতি যেন রকেটের রূপ নেয়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ৬৫ মিনিটে সফল হয় সুইসরা। রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার পাস বিনিময়ের পর শান্ত মাথায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ড্যান এনডোয়ে।

সমতা ফেরানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের কাছে ফাউলের নাটক (ডাইভ) করেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি জোয়াও পিনহেইরো ডাইভের অপরাধে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড দেখান। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন এই ফরোয়ার্ড।

১০ জনের সুইজারল্যান্ডের ওপর এরপর চড়াও হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ দিকে মেসির একের পর এক আক্রমণ এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বুলেট গতির শট সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্তভাবে রুখে দিলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণ ভাঙতে ধুঁকছিলো আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি শুটআউটের শঙ্কা যখন ঘনিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে (১১২ মিনিটে) জ্বলে ওঠেন হুলিয়ান আলভারেজ। ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের এক অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার শটে কোবেলের টপ লেফট কর্নার দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই চোখধাঁধানো গোলেই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করলে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে রিবাউন্ড বলে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

এই মহাকাব্যিক জয়ের পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত 'হ্যান্ড অফ গড' ম্যাচের ঠিক ৪০ বছর পর এটিই হবে বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম হাইভোল্টেজ নকআউট লড়াই, যেখানে প্রথমবারের মতো আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দেবেন লিওনেল মেসি।