সেমিতে ইংল্যান্ড, ৪০ বছর পর আর্জেন্টিনার সঙ্গে কী হতে চলেছে?

আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। টমাস টুখেলের দলের এই নাটকীয় জয়ে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। ফ্লোরিডার তীব্র গরমের মধ্যে পিছিয়ে পড়েও বেলিংহ্যামের জাদুকরী জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। এই জয়ের ফলে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। আর এর মাধ্যমেই ফিরছে ৪০ বছর আগের স্মৃতি।

ম্যাচের শুরু থেকে ইংল্যান্ড আধিপত্য বিস্তার করলেও নরওয়ের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিলো। উল্টো ম্যাচের প্রথমার্ধে আচমকা গোল খেয়ে বসে ইংলিশরা। বাম দিক থেকে নরওয়ের আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরাপের একটি ক্রস ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর টুখেলের দলকে বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিলো। মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেকজান্ডার সরলোথ সুযোগ হাতছাড়া না করলে নরওয়ের ব্যবধান তখনই দ্বিগুণ হতে পারতো।

তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু ও জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলেরই একটি করে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে ক্রিস্টোফার আয়েরের একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে নিশ্চিত রক্ষা পায় ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন বেলিংহ্যাম। ৯৩ মিনিটে মরগান রজার্সের একটি জোরালো শট নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক অরজান নাইল্যান্ডের হাত থেকে ফসকে গেলে চিতার বেগে ছুটে যান বেলিংহ্যাম। রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচের বাকি সময়টা রক্ষণভাগ সামলে জয়ের উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে ইংলিশ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে জুড বেলিংহ্যাম ছিলেন অনন্য। পুরো ম্যাচে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষিপ্র ড্রিবলিং ও জয়সূচক রিবাউন্ড গোলের সুবাদে তিনি পূর্ণ ১০-এ ১০ রেটিং পেয়েছেন। যেখানে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগের সূত্রপাত করা এলিয়ট অ্যান্ডারসন আট এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে বোতলবন্দী করে রাখা মার্ক গেহি সাত রেটিং পান। তবে সমতা ফেরানো গোলের অ্যাসিস্টদাতা অ্যান্থনি গর্ডন সাত রেটিং নিয়ে দ্বিতীয়র্ধে মাঠ ছাড়েন। চোট থেকে ফিরে অনভ্যস্ত খেলা উপহার দেওয়া জন স্টোনস ও বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইন পান মাত্র পাঁচ রেটিং। আর অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক শক্তির অভাব থাকা ডেক্লান রাইস ও ম্যাচের প্রথম গোলে রহস্যজনকভাবে হাত সরিয়ে নেওয়া নড়বড়ে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড—দুজনেই দলের সর্বনিম্ন চার রেটিং পেয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

ফিরে দেখা

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও রোমাঞ্চকর অধ্যায় হয়ে আছে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে পরাস্ত করে ‘হাত দিয়ে গোল’ করেছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়।

পরে ওই বছরের ২৯ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা পশ্চিম জার্মানিকে ৩–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। 

এবার ২০২৬ সালে মাঠের এই চরম নাটকীয়তার ঠিক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সেই পুরনো উন্মাদনা ও স্মৃতির দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এখন আর ‘হাত দিয়ে গোল’ দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিতর্ক কী এড়াবে? এর জবাব হয়তো মাঠেই মিলবে।