মায়ামির নরকগুলজার ভ্যাপসা গরমে নরওয়ের ভাইকিংদের চাটনি বানিয়ে ইংলিশ লায়ন্সরা এখন গা ঠান্ডা করার চেষ্টায় ব্যস্ত, কারণ তাদের পরবর্তী গন্তব্য এবার আটলান্টা! বুধবার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। তবে, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই বড় প্রশ্ন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের কিক-অফ কি পিছিয়ে যেতে পারে?
আটলান্টার এই ভেন্যুটি অবশ্য দুই দলেরই বেশ চেনা। এই মাঠেই শেষ বত্রিশের ম্যাচে কঙ্গোকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড, আর শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিসরকে বিদায় করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে, জর্জিয়া রাজ্যে পা রাখার পর থেকেই থ্রি-লায়ন্সদের আবহাওয়া নিয়ে বেশ ভালো রকমের ধকল পোহাতে হচ্ছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে মেক্সিকো সিটির গনগনে রোদ ভুলে আচমকা এক তুমুল বজ্রঝড়ের কবলে পড়েছিল হ্যারি কেইনরা, যার কারণে ম্যাচের কিক-অফ পুরো এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল ফিফা কর্তৃপক্ষ। এরপর মায়ামিতে গিয়েও নিস্তার মেলেনি; সেখানে মাত্রাতিরিক্ত গরম আর দমবন্ধ করা আর্দ্রতার সাথে যুদ্ধ করে নরওয়েকে হারাতে হয়েছে তাদের।
টানা এই বৈরী আবহাওয়ার ধকল সামলানোর পর এবার অবশ্য ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা দুই দলের জন্যই এক স্বস্তির খবর অপেক্ষা করছে। আটলান্টার এই ফিউচারিস্টিক স্টেডিয়ামটি আসলে সম্পূর্ণ ‘ক্লাইমেট-কন্ট্রোলড’ বা কৃত্রিমভাবে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রিত।
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় যখন ম্যাচের কিক-অফ হবে, তখন বাইরের তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে, ফুটবলপ্রেমীদের আশঙ্কার মেঘ উড়িয়ে দিয়ে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ছাদটি বন্ধ করে ভেতরের পরিবেশকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য একদম আরামদায়ক ও মনোরম রাখা হবে।
ফলে মেক্সিকোর মতো ঝড়-বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পিছিয়ে যাওয়ার বা মায়ামির মতো ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করার কোনো সুযোগই এবার থাকছে না। মাঠের বাইরের আবহাওয়া যতই বৈরী হোক, মার্সিডিজ-বেঞ্জের এসি-র ঠান্ডা বাতাসে বুধবার ফুটবলবিশ্ব যে এক নিখাদ ও নিরবচ্ছিন্ন বারুদ ঠাসা আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
তথ্যসূত্র: ডেইলি মিরর