সেমির আগে ব্রিটিশ সমর্থকদের প্রতি সতর্কবার্তা!

মায়ামির মাঠে নরওয়েকে পিষে দিয়ে হ্যারি কেইনরা যখন সেমির টিকিট কাটছিলেন, তখন গ্যালারিতে বসা হাজার হাজার ইংলিশ সমর্থক নাকি ভদ্রতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ‘লক্ষ্মী ছেলে’র মতো আচরণ করেছেন! কিন্তু ওদিকে সুদূর যুক্তরাজ্যে নিজেদের দেশে বসে বড় পর্দায় খেলা দেখা ব্রিটিশ ফ্যানরা মদের ঘোরে যা ঘটিয়েছেন, তা রীতিমতো লজ্জাজনক।

বুধবার চিরশত্রু আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মেগা সেমিফাইনালের আগে থ্রি-লায়ন্স সমর্থকদের এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশ প্রধান এবং চেশায়ার পুলিশের চিফ কনস্টেবল মার্ক রবার্টস। আমেরিকায় থাকা ফ্যানদের আচরণকে ‘অনুকরণীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি দেশের ভেতরের উশৃঙ্খল ফ্যানদের এক হাত নিয়েছেন।

England-Argentina 07
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শনিবারের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রায় ৪০ হাজার ইংলিশ সমর্থক একসাথে উপস্থিত ছিলেন। মার্ক রবার্টস জানান, মাঠের ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ। ম্যাচ শেষে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কোনো রকম বৈরিতা বা মারামারি দেখা যায়নি। কিন্তু আসল লঙ্কাকাণ্ডটা ঘটেছে ঘরের মাঠে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোররাত পর্যন্ত পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ৫০০-র বেশি সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনার রিপোর্ট জমা পড়েছে পুলিশের খাতায়! শুধু তাই নয়, স্পট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০০-রও বেশি উগ্র সমর্থককে।

পুলিশ প্রধান অত্যন্ত হতাশ হয়ে বলেন, দেশীয় প্রেক্ষাপটে এই বিশ্বকাপটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে টুর্নামেন্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে রেকর্ড সংখ্যক অপরাধ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। মায়ামিতে যদি কোনো ঝামেলা ছাড়া ৪০ হাজার ফ্যান একসাথে উৎসব করতে পারে, তবে দেশের মাটিতে কেন তারা এই ভদ্রতা বজায় রাখতে পারছে না?” মূলত পানশালাগুলোর বর্ধিত সময়সীমা এবং মদের অতিরিক্ত জোয়ারই এই মারামারির মূল কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। অথচ ইংল্যান্ড যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে, তখন মারামারি না করে দল ভাঙিয়ে আনন্দ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে যখন এই ডামাডোল চলছে, তখন ইংলিশ লায়ন্সদের পরবর্তী গন্তব্য এবার আটলান্টা, যেখানে সেমিফাইনালের মঞ্চে তাদের জন্য জ্যান্ত ওভেন নিয়ে অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ‘ডেইলি মেইল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এক বিশাল ও জটিল নিরাপত্তা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

England-Argentina 06
সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো, ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে টিকিট কাটা সমর্থকেরা গ্যালারির দুই প্রান্তে বসলেও, টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোর মতো এই ম্যাচেও সাধারণ দর্শকদের জন্য গ্যালারিতে কোনো কঠোর বিভাজন বা ‘সেগ্রিগেশন’ থাকছে না। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থকেরা গ্যালারিতে পাশাপাশি বসার সুযোগ পাবেন, যা ফকল্যান্ডের রাজনৈতিক ক্ষত ও ম্যারাডোনার স্মৃতির আবহে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা বাধিয়ে দিতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক মানুষের সমাগম হচ্ছে। জননিরাপত্তা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন করতে স্টেডিয়ামের চারপাশ, বিনোদন কেন্দ্র এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের প্রধান এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ বাহিনী ও লজিস্টিক মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জে মেসিদের বিরুদ্ধে নামার আগে ব্রিটিশ পুলিশ প্রধানের একটাই মিনতি, দেশের ভেতরের ফ্যানরা যেন আমেরিকার গ্যালারির ভদ্রতা দেখে কিছুটা শিক্ষা নেন এবং মদের ঘোরে নিজেদের ও পুলিশের জন্য নতুন কোনো ঝামেলা ডেকে না আনেন!