সতীর্থদের অতীতের ভূত ঝেড়ে ফেলতে বললেন কেইন

রাতে আটলান্টায় ঐতিহাসিক মহারণের ঠিক আগে ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে মাঠের বাইরে। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড- বিশ্ব ফুটবলের এই মহা-লড়াইয়ের আগে গ্যালারিতে যখন ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ আর ফ্রান্স বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের সেই অভিশপ্ত লাল কার্ডের স্মৃতি রোমন্থন করে রক্ত গরম করছেন সমর্থকেরা, ঠিক তখনই সতীর্থদের কড়া বার্তা দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠের বাইরের এই শতাব্দী প্রাচীন আবেগের ভূত মাথায় নিয়ে খেললে কপালে দুঃখ আছে! অতীতের ইতিহাস দিয়ে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা যাবে না।

এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে হ্যারি কেইন বলেন, আমরা জানি এই লড়াইয়ের মাহাত্ম্য কী। সমর্থকেরা হয়তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রতিটি অধ্যায় মনে রেখেছেন, কিন্তু খেলোয়াড়দের মাথায় এসব রাখা চলবে না। মাঠের খেলায় আবেগের কোনো স্থান নেই।

England Team 01
কেইন প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের ‘কঠিন ও সুশৃঙ্খল’ এক প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা দলটির ট্যাকটিক্যাল বোঝাপড়া দারুণ এবং ম্যাচ যদি ওদের মনের মতো না চলে, তবে ওরা যে কোনো উপায়ে প্রতিপক্ষের খেলার ছন্দ নষ্ট করে দিতে পারে। এই গুণগুলো নিয়েই আমাদের ভাবতে হবে, দশকের পর দশক পুরনো ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না।

এবারের বিশ্বকাপে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি, আর তাঁর চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে আছেন ইংলিশ কাপ্তান কেন। স্বভাবতই এই ম্যাচটিকে ‘মেসি বনাম কেইন’ দ্বৈরথ হিসেবে দেখছেন অনেকে। কিন্তু কেইন এই ধারণায় পানি ঢেলে দিয়ে বলেন, এটি কোনো একক খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। আমরা এখানে মেসির মতো একজন জাদুকরকে যেমন আটকানোর প্রস্তুতি নিয়েছি, ঠিক তেমনি পুরো আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়তে হবে। ওদের শক্তি ওদের একতায়।

England Team 02
নরওয়ে ম্যাচের পর থমাস টুখেলের কড়া সমালোচনা এবং জুড বেলিংহামের প্রকাশ্য ক্ষোভ নিয়ে ইংলিশ ডেরায় যে ‘গৃহযুদ্ধের’ গন্ধ পাচ্ছিল মিডিয়া, তা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক।

বেশ চড়া সুরেই কেন বলেন, দলের মধ্যে কোনো অশান্তি নেই। ড্রেসিংরুমে খোলামেলা ও সৎ আলোচনা হওয়াটাই একটা সুস্থ ও পেশাদার পরিবেশের লক্ষণ। যেখানে খেলোয়াড় এবং কোচ একে অপরকে আরও উন্নত করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। টুখেল আবেগ দিয়ে কথা বলেন এবং তিনি সবসময় আমাদের কাছ থেকে সেরাটা চান। আমরা যারা অভিজ্ঞ পেশাদার, তারা কোচের এই সরাসরি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে নিজেদের অনুপ্রাণিত করার কাজে লাগাই, এটিকে কোনো অজুহাত বা বাধা হতে দিই না।

Harry Kane 01
সব জল্পনা-কল্পনা, মাঠের বাইরের নোংরা বিতর্ক আর অতীতের সোনালী ইতিহাস এখন ব্যাকফুটে। আর মাত্র ৯০ মিনিটের (কিংবা তার চেয়ে বেশি সময়ের) লড়াই থ্রি-লায়ন্সদের নিয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপের ফাইনালে। হ্যারি কেনের ক্ষুধা স্পষ্ট- তিনি অতীতের পাতার ধুলো ঝাড়তে চান না, বরং এই নতুন প্রজন্মের ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে ইতিহাসের বুকে নিজেদের এক নতুন সোনার হরফের গল্প লিখতে চান! ওদিকে স্প্যানিশ আর্মাডারা ইতিমধ্যেই ফাইনালে বসে বুক চিতিয়ে অপেক্ষা করছে এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের জয়ীর জন্য!

তথ্যসূত্র: ইএসপিএন