স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের তিক্ত পরাজয়ের পর এবার আলবিসেলেস্তেদের হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিলেন লিয়ান্দ্রো পারদেস! একের পর এক বড় মন্তব্য করে আর্জেন্টাইন ফুটবলে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন বোকা জুনিয়র্সের এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। একদিকে জাতীয় দল থেকে নিজের অবসর নেয়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে দল হিসেবে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা অসম্ভব বলে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, সব মিলিয়ে পারদেসের বক্তব্যে আলবিসেলেস্তেদের এক যুগের সমাপ্তির করুণ ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে!
ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করে পারদেস বলেন, আমি সত্যিই জানি না সামনে চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় আমি এখনও আছি কি না। এটা এমন এক ধাক্কা, যা সামলাতে অনেক দিন সময় লাগবে।
দলের প্রবীণ প্রজন্মের বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, অনেকের জন্যই এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে, তারা জাতীয় দলে চালিয়ে যাবে নাকি সরে দাঁড়াবে। আমরা একটা অসাধারণ অধ্যায় পার করেছি, অনেক বড় কিছু অর্জন করেছি। কিন্তু এই একই পারফর্ম্যান্স এবং এই গ্রুপের পারফর্ম্যান্সের যে মান, তা এভাবে ধরে রাখা এবার চরম কঠিন হবে। অনেক কিছু ভেবে দেখার আছে, মাথা ঠান্ডা রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গত কয়েক দিনে যে বুনো তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাতি আর ষড়যন্ত্রের অভিযোগের ঝড় বয়ে গেছে, সব কিছুকে এক ঝটকায় পাশে সরিয়ে স্পেনের যোগ্যতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন পারদেস।
বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলে পারদেস বলেন, বিশ্বকাপের আগে, মাঝে এবং পরে অনেক ধরণের কথাবার্তা বলা হয়েছে। কিন্তু দিনশেষে সত্যিটা হলো, আমরা একটা দারুণ টুর্নামেন্ট খেলেছি ঠিকই, তবে ফাইনালে স্পেন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সেরা দল ছিল। তারাই এই ট্রফির যোগ্য বিজয়ী।
চতুর্থ নক্ষত্র ছোঁয়ার একদম কাছাকাছি গিয়ে খালি হাতে ফেরার যন্ত্রণা চিরকাল তাড়া করবে স্বীকার করেও পারদেস মনে করেন, ভক্তদের ভালোবাসা পাওয়াটাই তাঁদের বড় অর্জন। আমরা এমন একটা বিশ্বকাপ খেলেছি যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের খুঁজে পেয়েছে। সবাই আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছে। এই জায়গাটায় অন্তত আমি নিজেকে কিছুটা সুখী ভাবতে পারি, যোগ করেন তিনি।
বিতর্কিত লাল কার্ড দেখা, ফিফার নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা এবং এবার জাতীয় দলে বড় ভাঙনের বার্তা—পারদেসের এই অকপট সাক্ষাৎকার প্রমাণ করছে, ২০২৬ ফাইনালের হার কেবল একটি ট্রফি হাতছাড়া করেনি, বরং আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে সোনালী অধ্যায়টির ওপর টেনে দিচ্ছে এক বিষাদময় ড্রপসিন!
তথ্যসূত্র: মারকা