আর্জেন্টিনার তাণ্ডবে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ স্পেনের কোচ

নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের সিংহাসন হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে, অতিরিক্ত সময়ের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের রেশ শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যাচ শেষে মাঠজুড়ে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি আর অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনায় এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে বইছে তোলপাড়! স্পেনের বিজয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের এই আচরণকে ‘অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া ভাষায় ধিক্কার জানিয়েছেন।

মাঠের সেই তপ্ত মুহূর্তগুলোতে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলারদের মেজাজ হারানোর তালিকাটাও বেশ লম্বা। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারাদেস সরাসরি স্পেনের এরিক গার্সিয়া এবং গাভির সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন, এতে যোগ দেন দলের স্টাফরাও। আর, উদযাপনের উদ্দেশ্যে দৌড়ে যাওয়ার সময় স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রিকে পেটে আঘাত করেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা।

Spain Win 14
মাঠের বাইরে ঘটনার পারদ আরও চড়ায়, যখন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের দানি ওলমোকে সজোরে ধাক্কা মারেন! যদিও পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে দাবি করেন, ওটা কোনো ঘুসি ছিল না, সামান্য ধাক্কা ছিল! যদিও স্থির চিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ তার বক্তব্য সমর্থন করছে না।

ঘটনা শুধু মাঠের মারামারিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়িয়েছে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে পদক নেয়ার সময় স্প্যানিশ দল আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে সম্মান দেখায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি যখন ট্রফি উঁচিয়ে আনন্দ উদযাপন করছিলেন, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ খেলোয়াড় ট্রফির দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন!

টিভিই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেনের বস লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, যাদের আমি ম্যাচের আগে প্রশংসা করেছিলাম এবং যাদের একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছেন, সেইমানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন আক্রমণাত্মক আচরণ মোটেও কাম্য নয়। তবে এই উসকানি ও আগ্রাসনের মুখেও আমার দলের ছেলেরা যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

Final Chaos 06
ফিফার শাস্তির খাঁড়া:  
পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে ইতোমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। তাদের শৃঙ্খলা কমিটির একজন প্রসিকিউটরকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত খেলোয়াড় বা অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সামনে আপাতত কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ না থাকায়, সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা