সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে আলো কাড়লেন, আবার দুই প্রতিপক্ষকে ধাক্কা মেরে হলুদ কার্ড দেখে পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হলেন, নেইমার জুনিয়র মানেই তো ড্রামা, গ্ল্যামার আর অনফিল্ড অ্যাকশন! তবে ম্যাচটি ২-২ গোলে অমীমাংসিত ম্যাচটি শেষ হতেই ফুটবলপাড়ায় শুরু হলো আসল তুলকালাম। ড্রেসিংরুমে নিজের চেয়ে ছোট বয়সের সতীর্থদের নাকি জঘন্যভাবে গালাগাল করেছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয়! খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই আর চুপ থাকেননি নেইমার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা ছেড়ে এক হাত নিয়েছেন গুজব রটনাকারীদের।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে গোল করার পরই বোঝা গিয়েছিল নেইমারের মেজাজ তুঙ্গে। গোল উদযাপনে পোকার খেলার ভঙ্গি করা থেকে শুরু করে কর্নার ফ্ল্যাগকে গলফ ক্লাবের মতো ঘুরিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন তিনি। তবে ব্রাজিলের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো' দাবি করে বসে, ক্যামেরার আড়ালে প্রথমার্ধের বিরতিতে ও ম্যাচ শেষে ছোট সতীর্থদের ওপর নাকি অত্যাচার চালিয়েছেন নেইমার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতীর্থ গাব্রিয়েল বোন্তেম্পোকে ‘বলদ’ তকমা দিয়ে নেইমার নাকি বলেছিলেন, আগামী মৌসুমে তাকে টেবিলের তলানির দল চ্যাপেকোয়েনসের হয়েই খেলতে হবে! এখানেই শেষ নয়, ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা তরুণ ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে টেনে এনে তার ফুটবলের স্কিল নিয়ে বিশ্রি প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এতে নাকি সান্তোসের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ক্লাব কর্তারাও চরম ক্ষুব্ধ!
তবে বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়াতেই ইন্সটাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে মেজাজ হারান নেইমার। সোজা জানান, সব মিথ্যা! যারা এই খবর ছড়িয়েছে, দয়া করে মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। ড্রেসিংরুমে যা হয়েছে তা ছিল দলের সবার যৌথ কথা। আমি বলেছি, লুকাস বলেছে, গ্যাবি (বারবোসা) বলেছে, ব্রাজিলিয়াও বলেছে... আমরা সবাই একে অপরকে তিরস্কার করেছি কারণ আমরা জিততে চাই, আমরা কমপিটিটর! কিন্তু আলাদা করে কোনো তরুণ খেলোয়াড়কে টার্গেট করা হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, ইন্টারনেটে এসব ফালতু মিথ্যা আমি আর সহ্য করব না। ড্রেসিংরুমের ভেতরে হালকা বকাঝকা একদমই সাধারণ বিষয়। যারা এই বিশ্রী গুজব ছড়াচ্ছে, তারা ফুটবলের 'ফ'-ও জানে না এবং জীবনে কোনোদিন ড্রেসিংরুমের অংশও হয়নি!
মজার বিষয় হলো, ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ বোন্তেম্পো এবং আনানিয়াস দুজনেই প্রকাশ্যে এসে নেইমারের সাথে কোনো ব্যক্তিগত বিবাদের কথা বেমালুম উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা জানান, বিরতির সময় দলকে জাগিয়ে তুলতে একটি সাধারণ ড্রেসিংরুম টকই হয়েছিল মাত্র। তবে মাঠের গোল আর মাঠের বাইরের এই বিতর্ক, সব মিলিয়ে নেইমার কিন্তু ঠিকই খবরের শিরোনাম নিজের দখলেই রেখে দিয়েছেন!
তথ্যসূত্র: গ্লোবো স্পোর্টস