বিশ্বকাপ বিক্রির আসল চক্রান্তের পেছনে ট্রাম্পের আত্মীয়!

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আগুনে এবার নতুন করে ঘি ঢাললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনিতেই বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির চক্রান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই চারদিক থেকে তোপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। তার ওপর সেই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের একজন নাকি স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতার ভাই, এমন খবর চাউর হতেই ফুটবল বিশ্বে অসন্তোষের দাবানল জ্বলে ওঠে।

ঠিক এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢেলে ইনফান্তিনোর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। প্রকাশ্যে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো কারণেই হোক ফিফা যদি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা চিন্তা করে, তবে তা হবে তাদের এক বিরাট ও ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্ত।

Trump 03
ট্রাম্পের এই সাফাই গাওয়ার পরপরই যেন ফুটবল অনুরাগী ও সমর্থকদের মৌচাকে ঢিল পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো জুটিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের বন্যা।

স্কাই স্পোর্টস নিউজ ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করতেই ফুটবল ভক্তরা একের পর এক তীক্ষ্ণ ও চটপটে কটাক্ষে ভাসিয়ে দিচ্ছেন দুজনকে। কেউ চরম বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, ফুটবল বা ফিফা সম্পর্কে ট্রাম্পের কী ধারণা আছে, লোকটা কি পুরোপুরি মাথা খারাপ করে ফেলল নাকি?

Trump & Fifa 02
আবার কেউ ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেছেন, ফুটবলের নিয়মকানুন নিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের জ্ঞান থাকা এই তথাকথিত 'বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞের' অমূল্য বাণী কি এখন আমাদের মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে? অনেক সমর্থক আবার পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলছেন, ট্রাম্প যখন ইনফান্তিনোর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন, তখন ইনফান্তিনোকে ফিফা থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করার এর চেয়ে বড় কারণ আর হতে পারে না।

ট্রাম্প কোনো বিষয়ে কারো পক্ষ নেওয়া মানেই তা যে চরম অশুভ সংকেত, সে কথা মনে করিয়ে দিতেও ভুলেননি ফুটবলপ্রেমীরা। এমনকি কেউ কেউ তো ট্রাম্পকে খোঁচা মেরে বসেন এই বলে, হয়তো ট্রাম্প ভয় পাচ্ছেন, এবার তিনি ফিফা শান্তি পুরস্কারটা পাবেন না বলেই এভাবে ওকালতি করতে নেমেছেন!

Trump & Fifa 01
খেলার মাঠে অনাহূত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ইনফান্তিনোকে বাঁচাতে ট্রাম্পের এই মরিয়া চেষ্টা যে আদতে ফিফা সভাপতির গদির জন্যই নতুন বিপদ ডেকে এনেছে, তা অনুরাগী মহলের মন্তব্যেই স্পষ্ট। ট্রাম্পের এই সমর্থনের পর সাধারণ সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অভিমত, এটিই প্রমাণ করে যে ইনফান্তিনোর আর ফিফার শীর্ষ পদে থাকা উচিত নয়।

অবশ্য ট্রাম্প যে ঢালই সাজান না কেন, উয়েফাসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার প্রবল দাবির মুখে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ এখন চরম সুতোয় ঝুলছে। জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং ট্রাম্পের এই সমর্থন ইনফান্তিনোকে রক্ষা করে নাকি ডুবায়, তা স্পষ্ট হবে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ, যখন মরক্কোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফার পরবর্তী বহুল প্রতীক্ষিত ও উত্তেজনাকর সভাপতি নির্বাচন।

তথ্যসূত্র: স্কাই স্পোর্টস