পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তাঁর দীর্ঘদিনের রূপসী সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজের প্রেমজীবন ঘিরে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। অবশেষে সম্পর্কের এক দশক পর, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই চর্চিত যুগল অতি গোপনে আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পর্তুগালের লিসবনের কাসকাইসের বিলাসবহুল ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাসাদোপম ভিলায় ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় এই অত্যন্ত গোপন ও জমকালো বিয়ের পর্ব।
তবে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদলে মাত্র চারজন সাক্ষী এবং তাঁদের সন্তানদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া পরিবেশে সম্পন্ন হয় বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট। মজার বিষয় হলো, রোনালদোর মা দোলোরেস আভেইরো কিংবা তাঁর ভাই-বোনেরা এই গোপন বিয়েতে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না, যদিও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ছেলেকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মা।
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা হওয়া সত্ত্বেও রোনাল্দোর বিয়েতে পর্তুগাল জাতীয় দল কিংবা আল নাসের ক্লাবের কোনও সতীর্থ বা সেলিব্রিটি অতিথির উপস্থিতি ছিল না।
অনুষ্ঠানে শুধু তাঁদের পাঁচ সন্তান এবং দুই পরিবারের হাতেগোনা ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। স্পোর্টিং সিপির দিনগুলো থেকে রোনালদোর বিশ্বস্ত বন্ধু মিগুয়েল পাইসাও এবং জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ় এই বিয়ের আইনি সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিয়ের পরও রোনাল্দো ও জর্জিনা তাঁদের নিজ নিজ পদবি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিয়ের আইনি নথিপত্র এবং পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম জোর্নাল দে নোতিসিয়াস প্রকাশিত বিবাহের সনদপত্রে দেখা যায়, রোনালদো ও জর্জিনা দুজনেই তাঁদের বিয়ের আগের পুরোনো নামই বহাল রাখছেন।
বিয়ের ঠিক একদিন আগে ১০ আগস্ট লিসবনের একটি পাবলিক নোটারি কার্যালয়ে এই পাওয়ার কাপল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-বিবাহ চুক্তি বা প্রি-নাপশিয়াল এগ্রিমেন্টে সই করেন।
সেই চুক্তি অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা তাঁদের বিয়ের আগের সব ধন-সম্পত্তি ও সম্পত্তিগত অধিকার সম্পূর্ণ আলাদা রাখার আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অর্থাৎ, রোনালদোর সম্পত্তি তাঁরই থাকবে এবং জর্জিনার ক্ষেত্রেও নিয়ম একই। কোনও অবস্থাতেই পারস্পরিক অংশীদারিত্ব থাকবে না। ফলে সৌদি প্রো লিগ ক্লাব আল নাসের থেকে পাওয়া রোনাল্দোর বেতন, এনডোর্সমেন্ট চুক্তি এবং ‘পেস্তানা সিআর সেভেন’ (Pestana CR7) হোটেল চেইনসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে রোনাল্দোর নিজের দখলেই থাকবে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, যদি তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে জর্জিনাকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ইউরো আজীবন খোরপোশ হিসেবে দিতে বাধ্য থাকবেন রোনালদো। মাদ্রিদের প্রাসাদের মালিকানা: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত ‘লা ফিনকা’-র রাজকীয় ও বিলাসবহুল প্রাসাদটির সম্পূর্ণ মালিকানা সরাসরি পেয়ে যাবেন জর্জিনা রদ্রিগেজ়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রাসাদের বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
নিজেদের অঢেল সম্পদের হিসাব ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই তারা নতুন জীবন শুরু করলেন। বিয়ের সানাই বাজার পরপরই কোনো বিরতি না নিয়ে এই নবদম্পতি পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে, যেখানে আল-নাসর ক্লাবের হয়ে নতুন মৌসুমের জন্য জোর প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন সিআরসেভেন।